আষাঢ়ের গোপন বর্ষা

নন্দিনী লুইজা

আষাঢ়ের মেঘ জানে, সব বৃষ্টি তরুণ নদীর জন্য নামে না, 

কিছু বৃষ্টি নামে দীর্ঘ খরায় ঘুমিয়ে থাকা বনভূমির উদ্দেশে।

তেমনি নিজের সমস্ত উচ্ছ্বাস বুকে নিয়ে প্রেমে পড়েছিল, 

যার দেহে সময়ের দীর্ঘ যাত্রা,হৃদয়ের অন্তঃপুরে একটি জ্যোৎস্নাভেজা রাতে,

লাবন্য ভেবেছিল,তার বসন্ত বহু আগেই পাতাঝরার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। 

তার চোখে আর ঝড় ওঠে না, অধরে আর কাঁপে না প্রথম স্পর্শের কম্পন,

সময়ের ধুলো তার সমস্ত উচ্ছ্বাসকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে।

 

তারপর আষাঢ় নামে, মেঘের ভাঁজে ভাঁজে অপ্রকাশিত ভালোবাসার ডাক,

বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা তরুণের অব্যক্ত চুম্বনের মতো নেমে আসে, তার প্রিয়ার নীরব হৃদয়ে।

 

বয়সের ক্যালেন্ডার পড়তে জানত না,

সে পড়ত শুধু চোখের ভাষা, নিঃশ্বাসের গোপন সুর,

 নীরবতার ভেতরে জমে থাকা অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষার বর্ণমালা।

সে বলেছিল, "আমি তোমার হারানো যৌবন ফিরিয়ে দিতে আসিনি, 

আমি এসেছি তোমার ঘুমিয়ে থাকা বর্ষাকে একফোঁটা মেঘের ডাক শোনাতে।

 

যদি তোমার হৃদয় অনাবৃষ্টির মাঠ হয়, তবে আমাকে আষাঢ় হতকম্পন,

 যদি তোমার ঠোঁট দীর্ঘ নীরবতার নদী হয়, তবে আমাকে প্রথম বৃষ্টির ঢেউ হতে দাও।

 চাই না সময়কে হারাতে,চাই সময়ের বুকেই একটি নতুন ঋতুর জন্ম হোক।"

সেদিন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল,

কদম ফুলের গন্ধে ভিজেছিল বাতাস, ভিজেছিল স্মৃতি, 

ভিজেছিল বহুদিন নিজেকে আড়াল করে রাখা ভালোবাসা। 

তার চোখে আবার বৃষ্টির মতো দীপ্তি নেমে এলো, সে বুঝল-যৌবন শুধু দেহের নয়, যৌবন হলো কারও ভালোবাসায়, 

আবার নতুন করে প্রস্ফুটিত হওয়ার ক্ষমতায়। সেদিন কেউ আর বয়স গোনে না,কেউ হিসেব রাখে না
কত বসন্ত পেরিয়ে গেছে,শুধু মাটি আর বৃষ্টি
এক অনন্ত আলিঙ্গনে মিশে যায়।

তরুণটি- সে দাঁড়িয়ে রইল আষাঢ়ের মেঘ হয়ে,

অধিকার নয়, অর্ঘ্য হয়ে; কামনা নয়, করুণা হয়ে; ক্ষুধা নয়,অশেষ ভালোবাসার অবিরাম বর্ষা হয়ে।

আর প্রেম,সে তো আষাঢ়ের মতোই,যখন নামে,
তখন ঘুমন্ত পৃথিবীকেও সবুজ হয়ে উঠতে শেখায়।