এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৫১৯ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মেলা শুরু হয়েছে। শুরুতেই জমে উঠেছে মেলা। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় উপজেলার গোপীনাথপুরে এই মেলা বসে। প্রতিবছর দোল পূর্নিমায় উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা বসে। মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়ার মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগিতার ঘোড়া ক্রয়-বিক্রয় হয় এই মেলায়। ঘোড়ার দৌড় দেখার জন্য উৎসুক জনতা মেলায় ভিড় জমায়। তাছাড়া গরু, মহিষ ক্রয়-বিক্রয় চলে মেলা শুরু হওয়ার পাঁচদিন পর্যন্ত। (৫ মার্চ বৃহস্পতিবার ) জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মিয়া এবং আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত এই মেলা পরিদর্শন করেছেন।
মেলা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- গরু-মহিষ ও ঘোড়া কেনা-বেচা। কাঠের আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায় এই মেলায়। মেলা প্রায় মাসব্যাপী চলে। তবে এবার মেলায় বিনোদনমূলক যাত্রা, সার্কাসের অনুমোদন দেয়নি প্রশাসন। মেলায় দুই থেকে চার কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টান্ন পাওয়া যায়। বগুড়া থেকে আসা কম্বল ব্যবসায়ী আবু তালেব জানান, প্রতিবছর এই মেলায় আমি কম্বল নিয়ে আসি। গত দুই বছর এই মেলায় আসতে পারিনি। এবার এসেছি। আশা করছি- ব্যবসা ভালো হবে। মেলায় ঘোড়া কিনতে আসা নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার এনামুল হক জানান, প্রতি বছর এই মেলার অপেক্ষায় থাকি।
একটি ঘোড়ার দাম দুই লাখ টাকা বলারও পরও কিনতে পারিনি। তবে এবার ঘোড়া কিনেই বাড়ি ফিরবো। এবার একটি ঘোড়ার সর্বোচ্চ দাম হাঁকা হয়েছে সারে সাত লাখ টাকা। ঘোড়াটির মালিক মজিবর জানান, ‘ঘোড়াটি ভারতীয় তাজি ঘোড়া। এর বয়স সাড়ে চার বছর। এটি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুর মেলাটি ৫১৯ বছর ধরে চলছে। এটি অন্যতম প্রাচীনতম মেলা। আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন রেজা জানান, এই মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। এর সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশি টহল চলমান আছে। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত বলেন , আমি সরেজমিনে দেখেছি এবং মেলার বর্তমান পরিবেশ সুন্দর। মেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক টিম কাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য বিনোদনমূলক যাত্রা, সার্কাসের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
