এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
মাঘের কনকনে শীত বিদায় নিয়ে প্রকৃতিতে ফাল্গুনের আগামনী বার্তা বইতে শুরু করেছে। এবছর তুলনামূলক ভাবে তেমন শীত অনুভূত হয়নি বগুড়ায় জেলায় । জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার মাঘের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা কমেছে। এসময় ভোরের কুয়াশা কমে রোদ উজ্জ্বল হচ্ছে। আমের মুকুল, শিমুল ও জারুল ফুল ফোটা শুরু করেছে, যা ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের সংকেত দিচ্ছে। শীতের শেষে প্রকৃতির এই পরিবর্তন নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতুচক্রের আবর্তনে বিদায় নিচ্ছে মাঘ। ক্যালেন্ডারের পাতায় মাঘের আজ ২৪ তারিখ। দিন ফুরিয়ে আসার সাথে সাথেই শীতের রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতিতে বাজছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী সুর। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সোনালী রোদে এখন নতুন স্বপ্নের ছোঁয়া। উত্তুরে হাওয়া স্তিমিত হয়ে আসছে, আর দখিনা বাতাসের মৃদু কম্পন জানান দিচ্ছে, ফাল্গুন এসে গেছে দ্বারে। মাঘের শেষ কদিন সূর্য মামার তেজ যেন একটু বেশিই স্পষ্ট। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপ কমে আসছে।
একটি পৌরসভা ও উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা থেকে ঝরছে পুরোনো জীর্ণ পাতা। বন-বনান্তে শিমুল আর পলাশের কুঁড়ি উঁকি দিচ্ছে। মাঘের বিদায় মানেই কেবল কনকনে শীতের অবসান নয়, বরং জরা জীর্ণতা কাটিয়ে নতুন প্রাণের স্পন্দন। বসন্তের আগমনী বার্তার সবচেয়ে বড় দূত হলো কোকিল। মাঘের এই শেষ লগ্নেই লোকালয় ছাড়িয়ে দূরে কোথাও কোকিলের কুহুতান কানে আসতে শুরু করেছে। গ্রামের মেঠো পথ কিংবা শহরের পার্কের গাছগুলো এখন নিঃস্ব মনে হলেও ডালপালার ভেতরে চলছে আগামীর মহড়া। আমের মুকুলে মৌমাছিদের আনাগোনা আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসছে ঋতুরাজ।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর এই ঋতু পরিবর্তনকে বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বসন্ত মানেই বাসন্তী রঙের উৎসব। পৌর শহরের বিপণিবিতানগুলোতে ইতোমধ্যেই শীতের পোশাক কমতে শুরু করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালের এই সময়ে শীতের বিদায়বেলায় দেশের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বসন্তের সজীবতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। মাঘের এই শেষ লগ্নে শীতের আড়ষ্টতা কাটিয়ে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে জনপদ। রুক্ষতা আর রিক্ততা পেছনে ফেলে বসন্ত আসছে সজীবতার বার্তা নিয়ে। আদমদীঘি উপজেলার সমাজ সেবক নিমাইদীঘি গ্রামের মোঃ আবু রাহিম বলেন, এবছর মাঘের এই বিদায়বেলায় আমাদের প্রত্যাশা বসন্তের নতুন হাওয়া দূর করুক সব জড়তা, ভরে উঠুক সবার মন প্রাণের আনন্দে। শিমুল-পলাশের রক্তিম আভায় সেজে উঠুক আগামীর বাংলাদেশ। সান্তাহার পৌরশহরের চা বাগান এলাকার রিকশা চালক আব্দুল মান্নান বলেন,এবছর তেমন তীব্র শীতের প্রকোপ অনুভূতি হয়নি। কয়কদিন ধরে প্রচন্ড বাতাসের কারণে শীত শীত মনে হচ্ছে। তা না হলে শীত নাই বলই চলে।
