এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে:
‘ঘুষ দেবেন না, কাজ হবেই- দুদকের ভেতরেও দুর্নীতি আছে, আচরণেও সমস্যা আছে। জনগণের সহযোগিতায় এগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে।’ বগুড়ায় দুদক আয়োজিত গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এসব কথাগুলো বলেন। (১০ আগস্ট রবিবার) সকলকে তিনি দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কি করি, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরা যাতে দুর্নীতিগ্রস্ত না হয়ে পড়ি।’
গণশুনানির সমাপনী বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুর্নীতি করার জন্য ঘুষ দিতে হয়। যদি আপনারা ঘুষের সরবরাহ বন্ধ করে দেন- কাজ হোক বা না হোক- এক সময় দেখবেন ঘুষ ছাড়াই কাজ হয়ে যাবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বিকল্প নেই, তাদের কাজ করতেই হবে। বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির শিকারদের অভিযোগ শোনা হয়। অনুষ্ঠানে মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৫৭টি সরাসরি শুনানি করা হয়।
শুনানিকালে প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ ভর্তি কার্যক্রমের অভিযোগে রাব্বি ও সোহেল নামে দুইজনকে দুদক চেয়ারম্যানের নির্দেশে পুলিশ আটক করে। শুনানিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঙালি নদী খনন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে,যা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা। উক্ত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ফজলুল হক, বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও দুদক বগুড়ার উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এবং সাংবাদিকগণ।
