মোহাম্মদ আলী খান বাবুল
আজকাল ফেসবুক খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের জন্য ভিসা, প্যাকেজ ট্যুর, এয়ার লাইন টিকিট, হোটেল বুকিং সহ বিভিন্ন ধরনের অল্প খরচের অফার।এইসব চটকদার অফার দেখে বুঝার উপায় নেই যে কোনটা আসল আর কোনটা নকল। তাই অনেকেই অল্প দামের অফারের প্রতারণার ফাঁদে ধরা খায়। এসব প্রতারকেরা ঢাকা শহরের গুলশান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সুন্দর করে ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং অফিস সাজিয়ে বসে। উদ্দেশ্য সহজ সরল মানুষকে ঠকিয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করছি। আমি , আমার ভায়রা ভাই ও জেঠাশ তিনজন মিলে প্লান করি নেপাল ভ্রমণ করার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্যাকেজ ট্যুরে না গিয়ে নিজেরাই যাবো। গত ৪ মে ইউনিক ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজম এর স্বত্বাধিকারী মিঃ মুক্তারের কাছ থেকে তিনটি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের রাউন্ডট্রিপ টিকিট নগদ টাকায় ক্রয় করি। প্রতিটি টিকিট ৩১০০০ টাকা। ২২ মে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এবং ২৭ তারিখে কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা । ২২ মে যখন সকালে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা করার জন্য । ফ্লাইট ছিল দুপুর সাড়ে বারোটায় । সকাল ৭টায় হঠাৎ মিঃ মুক্তারের কাছ থেকে কল এলো এবং বললো যে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ফ্লাইট ক্যান্সেল্ড।
পরে অনলাইনে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে ফ্লাইট ঠিকই গিয়েছে তবে ২ ঘন্টা দেরিতে। তাকে একথা জিজ্ঞাসা করা হলে সে ভালো কোন উত্তর দিতে পারেনি। এরপর টাকা ফেরত চাইলে সে টালবাহানা শুরু করে ।বলে যে টাকা ফেরত নিলে কিছু টাকা কেটে রাখবে এবং কয়েকদিন দেরি হবে। তারচেয়ে কয়েকদিন পরের টিকিট নিতে বলে একই দামে । ইচ্ছে না থাকলেও রাজি হলাম । ১৫ জুন ঢাকা-কাঠমান্ডু ও ২১ জুন কাঠমান্ডু-ঢাকার টিকিট নিলাম । ১৪ জুন দুপুর দুইটার দিকে অন্য একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে কল পেলাম ।
তারা জানালো যে আমাদের তিনটি টিকিট তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বাকিতে এবং আর যদি টিকিটের টাকা বিকেল তিনটার মধ্যে না দেয়া হয় তবে ক্যান্সেল করে দিবে। বুঝতে পারলাম যে প্রতারণার জালে ফেঁসে গেছি। কল করলাম মুক্তার সাহেবকে। তিনি বলেন যে দেখি কি করা যায়। টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলেন যে দুই তিনদিনের মধ্যেই দিয়ে দিবে । এই অবস্থায় বিশেষ একজন ব্যক্তি দিয়ে ফোনে কথা বলানোর পর গতকাল পর্যন্ত মোট চার কিস্তিতে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পেয়েছি। প্রতারণা করার কৌশল দেখুন । অনলাইন কনফার্মড টিকিট দিয়েছে, আর টিকিট কিন্তু ফেক না। অতএব ফেসবুকে দেখে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে টিকিট নেওয়ার সময় ভালো করে যাচাই করে নেয়া উচিৎ ।
