চাঁদের আলোর রস্মি ধরে সারারাত আমি তোমাকে খুঁজি, তুমি নেই!

প্যামেলিয়া রিভিয়ের

 

তুমার শেষদিনটিতে প্রথম দিনের মতোই তুমি  নিষ্পাপ, প্রেমময়, সুন্দর এবং মিশুক ছিলে, 

তুমি  এতো কষ্ট যন্ত্রণার মাঝে শেষ প্রস্থানের আবেগময় মুহূর্তে,

 সবাইকে তুমার ভালবাসা জানিয়েছিলে, 

তুমার অ্যাম্বার রঙের, সুন্দর, মায়াময়, হলুদাভ মিষ্টি চোখের পাতা ফেলে, একে একে সবাইকে!


আমরা তুমাকে ভালোবাসা, 

আর সম্মানের সাথে প্রস্থান করতে দেখতে চেয়েছিলাম,

 তুমার শান্তিময় মৃত্যুর   আয়োজন করেছিলাম, 

তুমার আত্মা কি শান্তি পেয়েছে? 


তুমি  কি আমাদের ছেড়ে যেতে, 

অনেক কষ্ট পেয়েছো, আমি জানিনা, 

তোমাকে যেতে দিয়েছি, 

এই অপরাধবোধ আমাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়!

 

তুমি  আমাদের আদরের ফ্রেডি সোনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে,
তুমি  অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে,
উপরের তলার জানালায় লাফিয়ে উঠেছিলে

রবিন, কার্ডিনাল, ওরিওল, পাখিদের সাথে, জানালায় বসে কথা বলবে বলে!


শেষের দিনগুলোতে, তুমার শরীর ভালো যাচ্ছিলোনা বলে,

আমরা তোমাকে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে নিয়ে যাই

পরীক্ষা  নিরীক্ষা শেষে তিনি ইচ্ছামৃত্যুর পরামর্শ দিয়েছিলেন,
তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেছিলেন যে, ফ্রেডি তার জীবনযাত্রার মান হারিয়ে ফেলেছে!

কিন্তু আমরা আরও পরীক্ষার জন্য
তোমাকে একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম

আমরা তা করেছিলাম!

যদিও আমরা চাইনি যে আমাদের ফ্রেড এত কঠোর পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাক!


ফ্রেড তার গতিশীলতা 

এবং তার মূত্রাশয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলো 

তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তার টিউমার বা ক্ষত থাকলে,
ফ্রেডি অস্ত্রোপচারের পরেও ভালোভাবে বাঁচতে পারবেনা!
 

গত দু বছর ধরেই সে গুরুতর অস্টিওআর্থারাইটিসে ভুগছিলো
তার পিঠ, পিছনের পা এবং নিতম্বের জয়েন্টে ব্যথা রয়েছে।
ডাক্তার  ফ্রেডিকে স্টেরয়েড দিয়েছিলেন,
এবং তাকে চিরতরে ঘুমাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আমি তখনও প্রস্তুত ছিলামনা বিদায় জানাতে তুমাকে, আমার ছোট্ট ফ্রেডি সোনাকে!
প্রায় এক বছর আগে আমরা তুমার জন্য একটা চমৎকার,

 প্রশস্ত বাসা বানিয়েছিলাম,
এটা এক ধরণের উপশমকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল!


যা আমরা তোমার জন্য তৈরি করেছিলাম,
যাতে তুমি পাখি, কাঠবিড়ালী দেখতে পার,
ওদের সাথে কথা বলতে পার, ভাব বিনিময় করতে পার
এবং সূর্যের আলো উপভোগ করতে পার!

আবহাওয়া ভালো থাকলে আর উষ্ণ রোদ হলে,
আমি তোমাকে বাইরে নিয়ে যেতাম, বাগানে তুমাকে গোসল দিতাম,
তুমি কিছুক্ষণের জন্য শীতকালীন বাগান ঘুরে দেখতে,
তারপর তুমার ক্লান্ত দেহ নিয়ে তুমি বুদ্ধের মতো গাছের ফাঁকে, রোদের নীচে বসে থাকতে!

তুমি জানো আমরা তোমাকে ভালোবাসি, ফ্রেডি সোনা,
তুমি আমাদের কতটা আদরের, তুমি তো জানো,
আমি তোমাকে অনেক, অনেক অনেক ভালোবাসি,

ফ্রেডি সোনা!

 

তুমি আমাদের চৌদ্দটি বছর  ধরে,

 পাখি আর বাতাসের গান শুনিয়েছিলে,

সারা দিনমান ধরে খেলে,

 দিনশেষে,

 আমার বুকের উপর ক্লান্ত হয়ে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে!

 

তুমি অপার ভালোবাসা আর নির্মল আনন্দ দিয়ে 

আমাদের জীবন পূর্ণ করে দিয়েছিলে,

যখনই আমি আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তাম

তুমি লাফিয়ে উঠে আমার পাশে রাখা বালিশে মাথা রেখে ঘুমাতে, ছোট্ট, অবোধ শিশুর মতো। 

 

মাঝে মাঝে, তুষারপাতের তীব্র শীতের রাতে,

 তুমি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে

আমি প্রায়ই ঘুম থেকে উঠে দেখতাম,

 তুমি আমার বুকে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমাচ্ছ। 

 

আমি চুপ করে শান্তভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম যাতে তুমি না জেগে যাও,

আমার কম্পিউটার টেবিল ছিল তোমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা

তোমার ভীষণ ভালো লাগতো টেবিলে বসে আমাকে মুখোমুখি দেখতে,

আর তুমি আমার কাজ দেখতে দেখতে, ঘুমিয়ে পড়তে। 

 

রান্নাঘরে তোমার জন্য ছোট্ট একটা চেয়ার রাখা ছিল।

 যখন আমি বিভিন্ন রকম সুস্বাদু খাবার রান্না করতাম

রান্নাঘরে সময় নিয়ে অনেক কাজ করতাম

তুমার আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে যেত!

 

তুমি আমার সঙ্গ ভালোবাসতে,

গ্রীষ্মের দুপুরে ব্যালকনিতে, কম্পিউটার টেবিলে তুমি বসে থাকতে

অনেক আনন্দ হতো তুমার, আমার নিত্যদিনের কাজের বহর দেখে

আমাকে অবিরাম কাজ করে যেতে দেখতে!

 

আর তুমি টুনা, স্যামন মাছ, মুরগি আর ডিমের তরকারির সুঘ্রাণ পছন্দ করতে। 

 তুমি ঘরে রান্না করা খাবার খেতে বেশি ভালোবাসতে। 

আমি যখন বাগানে কাজ করতাম, তখন তুমি আমার  সাথে বাগানে ঘুরে বেড়াতে,

পাখি আর কাঠবিড়ালিদের আনাগোনা উপভোগ করতে। 

 

আমার সব কাজে তুমি আমার সঙ্গী ছিলে!

 প্রতিদিন সকালে বাগানে প্রাতরাশের সময়,

 তুমি আমার সাথী ছিলে

তুমার প্রিয় খাবার গুলো আমার প্লেট থেকে খেয়ে তুমি বাগানময় ঘুরে বেড়াতে

 

তুমি প্রতিদিন সকালে আমার ঘুম ভাঙাতে

আমাকে সাথে নিয়ে এক পা এক পা করে হাটতে,

 পিছন ফিরে বার বার দেখতে আমি যেনো পরে না যাই

তোমার মত আমার চলার গতি মন্থর হয়ে পড়েছিল, তুমি তা জানতে!

 

তুমি ছিলে আমার শান্ত সকাল,

 প্রসন্ন দুপুর,

আমার উষ্ণ বিকেল, আনন্দ সন্ধ্যা,

এবং আমার একাকী রাতের বিশ্বস্ত সঙ্গী

 

আমার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়, 

দরজার পাশে উন্মুখ হৃদয়ে বসে থাকতে তুমি,

 তুমার ভালোবাসা ছিলো নিখাদ, 

মমতায় পরিপূর্ণ!

 

ফ্রেডি, আমার প্রিয় ফ্রেডি, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি

আমি আকাশের তাঁরায় তাঁরায় খুঁজে ফিরি তুমাকে, তুমি নেই

চাঁদের আলোর রস্মি ধরে হাঁটি সারারাত 

তুমি নেই!

 

ওক গাছের পাতা, লাইলাক, আর ম্যাপেল গাছের ডালের ফাঁকে খুঁজে দেখি,

 তুমি নেই,

 ল্যাভেণ্ডার ঝোপে খুঁজে বেড়াই তুমি নেই

কোথাও তুমি নেই, প্রাণ আমার!

 

সবচেয়ে শেষে তুমি এসেছিলে,
তুমি সবার আগে গেছ চলে,

তুমার ছোট্ট থালা, পানির আধার, রাশি রাশি খেলনা

পুরো বাড়িতে তোমার স্মৃতি জুড়ে আছে!

 

সবকিছু তেমনি সাজানো আছে

যেনো তুমি এখনি খেলা শেষে, ফিরবে বলে!

ব্যথার ভারে, আমার বুকের ভেতর শূন্য হয়ে গেছে,

তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে ভালোবাসি ফ্রেডি সোনা!
 

তুমি আমার হৃদয়ে, তোমার পায়ের চিহ্ন রেখে গেছো

বরফ গলে গেছে,
বাগানে তোমার লাল-সবুজ বল
তুমার অপেক্ষায় কাঁদছে, কিন্তু তুমি নেই!

 

যে যায়, সেতো চলে যায়

কখনো ফিরেনা কুলায়,

সবচেয়ে শেষে তুমি এসেছিলে,

তুমি  সবার আগে গেছ চলে !