নিউইয়র্ক (ইউএনএ): অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, বাদ-প্রতিবাদ আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘আমব্রেলা সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকর্পোরেটেড এর সাধারণ সভা। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিও ছিলো লক্ষনীয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সোসাইটির ১,৩২২জন সদস্য থাকলেও দেড় শতাধিক সদস্য রোববারের সাধারণ সভায় যোগ দেন। সভায় সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ছিলো বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। মূলত: সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এবং কবর ক্রয় করা নিয়ে সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের বক্তব্য নিয়ে সভায় উত্তেজনার সৃষ্ঠি হয়। পরে রুহুল আমীন সিদ্দিকী ফ্লোর নিয়ে তার বক্তব্যে অভিযোগের জবাব দেন। সভায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রাইভেট সিকিউরিটি রাখা হয়। খবর ইউএনএ’র। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর উপস্থাপনায় আমন্ত্রণে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন সংগঠনের ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সোসাইটির গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সহকারী সাধারণ সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম রুমি। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সংগঠনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী এবং গীতা পাঠ করেন নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক গণেশ কির্তনীয়া। পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় জাতীয় সঙ্গীত। আনুষ্ঠানিকভাবে সভার কার্যক্রম শুরুর পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। এরপর সভায় সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ্যের রিপোর্ট পেশ করেন যথাক্রমে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও  কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম রুমি। রিপোর্টে এক বছরে সোসাইটির আয় ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭০৩ ডলার আর ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯৫ ডলার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যাংকে রয়েছে ৭১ হাজার ৩৮২ ডলার। রিপোর্ট দুটি উপস্থাপনের পরই মুক্ত আলোচনার শুরুতেই সভায় শুরু হয় হৈচৈ। এসময় সভাপতি সেলিমের আহŸানে সভায় শান্ত পরিবেশন ফিরে আসে এবং সাবেক সাধারণ জয়নাল আবেদীন প্রথম আলোচনায় অংশ নেয়া সুযোগ পান। পরবর্তীতে রিপোর্ট দুটির উপর আলোচনায় আরো অংশ নেন সাবেক সভাপতি এম এ আজীজ ও আজমল হোসেন কুনু, ট্রাষ্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য মকবুল রহিম চুনুই, সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম,অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী ও রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সোসাইটির সদস্য ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ও ফিরোজ আহমেদ, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নিশান রহীম ও নওশাদ হোসেন, সাবেক কর্মকর্তা জামান তপন ও তোফায়েল চৌধুরী, সদস্য আলম মেহেদী, ইউনূস সরকার, সারোয়ার খান বাবু, মাসুদ এইচ সিরাজী, আব্দুল খালেক প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ও ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আব্দুর রহীম হাওলাদার। সভায় কোন কোন সদস্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সোসাইটির ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেণ। এছাড়াও গঠনতন্ত্র মানা না মানা, কবর ক্রয় সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন সদস্যরা। কথা কাটাকাটি হয় বর্তমান কমিটি ও বিদায়ী কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে। ফলে সভায় একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সভায় বক্তারা বাংলাদেশ সোসাইটির ভবন ক্রয়ের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও গঠনতন্ত্রে নির্বাচন কমিশনের আয়-ব্যয় কার্যকরী কমিটির নিকট দাখিলের প্রস্তাব অন্তর্ভূক্ত করার দাবী এবং কেউ কেউ মাদার সংগঠন হিসেবে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য সোসাইটির প্রতি আহŸান জানান। সভায় শাহ নেওয়াজ বলেন আমরা এমন কোন কাজ করবো না যাতে সোসাইটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা সোসাইটির ভবনের সমস্যা বা ভায়েলেশন নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে নতুন ভবন ক্রয়ে কোন অনিময় করা হবে না। তিনি বলেন, সোসাইটির নতুন ভবনের জন্য এক লাখ ২৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছি। প্রয়োজনে নতুন ভবন ক্রয়ে আমি আরো  ২ মিলিয়ন ডলার দেবো, ইনশাল্লাহ সোসাইটি ভবন হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সভায় উপস্থিত সদস্যদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বক্তব্যের পর সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের আহŸানে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য হাত তুলে কন্ঠ ভোটে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ-এর রিপোর্ট দুটি পাশের পক্ষে রায় দেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।