বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিটি ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা যায়। চুক্তিটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন সমঝোতা সইয়ের ফলে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন কাঠামোতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি চুল্লি রয়েছে। দুটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ চিকিৎসা, কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্প খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকির আওতায় থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে আসছে বাংলাদেশ।
নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির সমতুল্য নয়। সমঝোতা স্মারক মূলত দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পারমাণবিক জ্বালানি, সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বর্তমান সমঝোতাকে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার একটি প্রাথমিক ও কৌশলগত কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ও কৃষিতে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরাপত্তা, পরিবেশগত ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করাই হবে মূল বিষয়।
