বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন: অভিযোগ অস্বীকার, তহবিলে এখন প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার

আকবর হায়দার কিরন
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি, ইনক’-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অর্থ আত্মসাতের দাবির বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন রিজু মোহাম্মদ ও অনিক রাজ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমান কার্যকারী পরিষদ যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সংস্থাটির নিট আর্থিক স্থিতি ছিল মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার। তবে গত ২০ মাসে বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক সেবা পরিচালনার পাশাপাশি তহবিল বৃদ্ধি করে বর্তমানে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক মিলিয়ন ডলারে (৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার)।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে যে স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়:
১. ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ:
কমিটির বিরুদ্ধে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার অপচয়ের অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দেওয়া হয়। সোসাইটি জানায়, গত ২০ মাসে নিয়মিত অপারেটিং ও বিভিন্ন কর্মসূচি খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ ডলার, যা যথাযথ দালিলিক প্রমাণ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দ্বারা সমর্থিত। একই সঙ্গে তহবিলে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত রয়েছে।
২. বাংলাদেশ সেন্টার ক্রয় প্রসঙ্গ:
জ্যামাইকায় ‘বাংলাদেশ সেন্টার’ ক্রয়ের বিষয়ে বলা হয়, শর্তসাপেক্ষে ২ লাখ ডলার ডিপোজিট দিয়ে প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ভবনে কিছু আইনি জটিলতা ও বিক্রেতা পক্ষ নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সংগঠনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তি বাতিল করে ডিপোজিটের পুরো ২ লাখ ডলারই ফেরত আনা হয়েছে।
৩. ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানা:
পূর্ববর্তী কমিটির আমল থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া প্রায় ৮২ হাজার ডলারের ভায়োলেশন জরিমানার বিষয়ে পেশাদার ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ৩১ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং তা আরও মওকুফ বা কমানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৪. ইফতার মাহফিলের ব্যয় ও অন্যান্য হিসাব:
গত দুই বছরে ৪টি এলাকায় আয়োজিত মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের মোট ব্যয় ৮৯ হাজার ডলার হলেও, তার মধ্যে প্রায় ৪২ হাজার ৭৭০ ডলার এসেছে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান থেকে। ফলে সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিটি ইফতার মাহফিলে গড় ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫,৮০৩.৭৫ ডলার। এছাড়া কর্মকর্তাদের নামে ইস্যুকৃত চেকের বিষয়ে জানানো হয়, জরুরি কেনাকাটায় কর্মকর্তাদের নিজ পকেট থেকে দেওয়া অর্থের বৈধ ভাউচারের বিপরীতেই কেবল ‘রিইম্বার্সমেন্ট’ (Reimbursement) চেক দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ছিল ১৮ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ সঠিক তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান। বিভাজন এড়িয়ে প্রবাসীদের এই ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মকে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ছবিতে দেখুন



