চলে গেলেন অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান - কাজী মন্টু

বাংলাদেশ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১০৯
চলে গেলেন অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান - কাজী মন্টু

চলে গেলেন অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আমার ভায়রা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ কুমিল্লা জেলার শিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাঈদ-উর রহমান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

‘পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সমকালীন কবিতা’ বিষয়ে গবেষণার জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক ড. সাঈদ-উর রহমান ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ১৯৯১ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং পরবর্তীকালে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তাঁর পরিচয় কেবল একজন বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন মুক্তচিন্তার মানুষ, গবেষক ও সমাজ-রাজনীতি সচেতন একজন বুদ্ধিজীবী। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য থেকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস এবং মার্কসবাদ, বিস্তৃত ক্ষেত্রে ছিল তাঁর অনুসন্ধিৎসা ও লেখালেখি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে চারু মজুমদার ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলন, পূর্ববাংলার রাজনীতি-সংস্কৃতি ও কবিতা এবং এ কেমন বাংলাদেশ।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে মার্কস ও মার্কসবাদীদের সাহিত্যচিন্তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন পুরস্কার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুর রব চৌধুরী স্বর্ণপদক এবং ২০০৩ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি।

অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান রেখে গেছেন তাঁর সহধর্মিণী আনিস ফাতেমা, সরকারি তিতুমীর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল; তাঁদের একমাত্র পুত্র অতীশ আসিফ রহমান, সিটি ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড এরিয়া হেড, পুত্রবধূ এবং দুই নাতি। তাঁর প্রয়াণে স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, দুই নাতি, আত্মীয়স্বজন, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী গভীর শোকাহত। পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। মহান আল্লাহ সবাইকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।

মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন