চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,জুয়া এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান : ওসি মো.কামরুজ্জামান মিয়া

বাংলাদেশ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯৬১
চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,জুয়া এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান : ওসি মো.কামরুজ্জামান মিয়া

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ) বিকাল সাড়ে ৪ টায়, আদমদিঘী উপজেলার, শান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকমুক্ত, চুরি ডাকাতি ছিনতাই জুয়া /অনলাইন জুয়া মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সচেতনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন আদমদীঘি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া।

এ সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, আদমদিঘী থানা এসআই মো.ইন্তেজারুল ইসলাম, এসআই খোকন চন্দ্র ভৌমিকসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ এবং রেলওয়ে স্টেশনের পথচারী গণ।

আদমদীঘি থানা (ওসি) মো.কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মাদক, ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এছাড়াও রাণীনগর বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় বিকেল ৫ টায় এবং পাল্লাপাড়া নামক স্থানে বিকাল সাড়ে ৫ টায় আদমদীঘি থানার (ওসি) বিভিন্ন সচেতনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

আদমদীঘি থানা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া রানীনগর বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় তার বক্তব্যে বলেন,

মাদক কেবল ক্ষতিকরই নয়, মানুষের একটা মারত্মক মরণফাঁদও বটে। অকাল মৃত্যুই মাদকসেবির নিশ্চিত ঠিকানা। তবু মানুষ মাদক সেবন করে। কেন করে? প্রথম দিকে বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে শখের বশে কিংবা নানা রকম হতাশার কারণে মাদক সেবন শুরু করলেও ঐ ব্যক্তির দেহে মাদকের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি বা চাহিদা যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন নিজের চাহিদা মেটাতে সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এরপর সে একের পর এক পা রাখতে শুরু করে অন্ধকার জগতে অপরাধের ক্ষেত্রগুলোতে।

চুরি-ডাকাতি- রাস্তায় ছিনতাই-ধর্ষণ-রাহাজানি এমনকি খুনখারাপি পর্যন্ত হয়ে পড়ে তার নিত্যদিনের সঙ্গী। এভাবে পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ একসময় ঢলে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত অপমৃত্যুর কোলে।সমাজ ও প্রজন্মের সাম্ভাব্য ধ্বংস আর নিঃশ্বেষ বার্তা রেখে পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় সে।

সমাজে চুরি, ডাকাতি, খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ নানা ধরনের অপকর্মের জন্য দায়ী মাদকের তীব্র চাহিদা এবং এর ভয়াবহ বিস্তার। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নরনারীদের একটি বড় অংশকে মাদক গ্রাস করে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসা আর বাঘের মুখের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে গলা থেকে মাছের কাটা বের করে আনা একই কথা। তবু আনতে হবে। সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। জ্বলে উঠতে হবে আগুণের মতো। ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আর একটি মুক্তিযুদ্ধে। মাদক নির্মূলের মুক্তিযুদ্ধ। মাদককে রুখতে হবে।

নিজেকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। দূরে রাখতে হবে নিজ পরিবারের সবাইকে। ছোটদের মাদকের কুফল ও ভয়াবতা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। সন্তানদের নজরদারিতে রাখতে হবে। ছোটদের প্রতি নির্দয় হওয়া যাবে না। তাদের প্রতি মন্দ আচরণ করা যাবে না। শাসনের নামে মন্দ আচরণ করলে তারা ব্যাকে যাবে। তাদের প্রতি স্নেহশীল হয়ে ভালো আচরণের মাধ্যমে তাদের সুন্দর মায়াবী পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে।

পরিবারকে মাদকমুক্ত রাখতে বা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে গৃহিণী বা মাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন আদর্শ গৃহিণী বা মা-ই পারেন তার পরিবারকে সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতে। তার আদরের সন্তানটি কখন কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কী করছে—নিয়মিত এসব নজরদারির মাধ্যমে তাকে আদর্শ শিশু হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা মাদকের ছোবল থেকে শিশু-কিশোর তথা সমাজকে রক্ষা করার একমাত্র পথ হতে পারে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রেখে মাদকমুক্ত নির্মল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আসুন আমরা নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ পরিবারকে মাদকমুক্ত রাখার শপথ নিই। নিজের সন্তানের প্রতি যত্নবান হই। তাদেরকে মাদক থেকে দূরে রাখি।

তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত সভা, প্রচার-প্রচারণা ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

তিনি আরও বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।” মাদকমুক্ত পরিবার গড়ি। গড়ি মাদকমুক্ত সমাজ। নিজে বাঁচি, দেশকে বাঁচাই।

ছবিতে দেখুন

চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,জুয়া এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান : ওসি মো.কামরুজ্জামান মিয়া
চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,জুয়া এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান : ওসি মো.কামরুজ্জামান মিয়া
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন