খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে বগুড়া এবং নওগাঁর গাছিরা

এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :
শরৎকাল শেষ হয়ে হেমন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে প্রকৃতি। ভোরের হালকা শীত ও শিশির পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই তিন ঋতুতে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হয় পাটালি ও তরল গুড়। এছাড়াও সকালে গাছ থেকে হাঁড়ি নামিয়ে তাজা খেজুরের রস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পিঠা-পুলি ও পায়েসসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ির আশপাশে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার পাশে ও বিভিন্নস্থানে অসংখ্য খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই ঝোড়ার কাজ শুরু হয়েছে। আর ১০ থেকে ১৫দিন পর খেজুরগাছে হাঁড়ি লাগিয়ে রস সংগ্রহ শুরু হবে। তাই আগেভাগেই গাছ ঝোড়ে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
রস সংগ্রহ শুরু হলে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠবে খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়ের বেচাকেনা। উপজেলার কুন্দারহাট, ওমরপুর, রণবাঘা ও নন্দীগ্রাম হাট-বাজারে খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়ের বেচাকেনা বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও পাওয়া যায় খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়।
খেজুরের রস ও গুড়ের মৌসুম ঘিরে একদিকে যেমন গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও নানা রকম মুখরোচক খাবারের অপেক্ষায় রয়েছেন গ্রামবাংলার মানুষ। নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটলাল গ্রামের আফছার আলী বলেন, আমার ১২টি খেজুরগাছ আছে। প্রতিটি খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজে গাছিকে ১৫০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে। এখন পুরোদমে চলছে খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজ। যারা খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজ করে তাদেরকে গাছি বলা হয়। এছাড়াও অপরদিকে আত্রাইয়ে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা
নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের তৎপরতা। সু মিষ্ট এ রস সংগ্রহে গাছিরা এখন বিচরণ করছেন খেজুর গাছে গাছে। সেই দুপুর থেকে শুরু হয় খেজুর গাছে হাড়ি টানানো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হাড়ি টানানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটি শীতকালীন রস হলেও এবারে আগাম রস সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন গাছিরা।
উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায়, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে হাজার হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও দৃষ্টি কেড়েছে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেষে রেললাইনের খেজুর গাছগুলো।
আত্রাই রেলওয়ে (পুরাতন) স্টেশন থেকে উত্তরদিকে মহাদিঘী পর্যন্ত রেল লাইনের দুই ধারে প্রায় ৩ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। এক সময় এলাকার গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও বর্তমানে এলাকার গাছিদের আর দেখা মেলে না।
তাই প্রতিবছর রাজশাহীর বাঘা, আড়ানি ও নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন। আর এ রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালী ও গুড়। এলাকার চাহিদা মিটিয়েও এ গুড় বাজারজাত করা হয় অন্যান্য জেলায়।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বন্ধের শঙ্কায় পোলট্রি খামার : উৎপাদন খরচ বাড়লেও মিলছে না
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। আত্রাই রেল লাইনসহ এলাকার প্রায় ২ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং সেই কাক ডাকা ভোর থেকে এগুলো রস জ্বাল করে লালী ও গুড় তৈরি করেন। বছরের চার মাস এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এর আয় দিয়েই সারাবছরে সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, খেজুর গাছ একটি লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধার এবং যে কোন জায়গায় এ গাছ হয়। খেজুর গাছ থেকে একদিকে যেমন মিষ্টি রস, লালী ও গুড় তৈরি করা হয় তেমনি অনেক জ্বালানীও সংগ্রহ করা যায়। অধিক হারে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে কৃষক লাভবান হবে।
ছবিতে দেখুন

