আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: যুক্তরাষ্ট্র

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনার বিচার নিয়েও ওয়াশিংটনের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আছে কি না—এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নিতে চায় না। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা বাংলাদেশের সরকারের সিদ্ধান্ত।”
শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই
শেখ হাসিনার বিচার ও দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিক লভলু আনসার। তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের রায়, তার দেশে ফেরার ইচ্ছা এবং অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কারণ হয়ে আছে। ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। শেখ হাসানাকে নিয়ে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি বলেও জানান তিনি। পরে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে উৎসাহ দেয়।
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল নিয়ে প্রশ্ন
ব্রিফিংয়ে লভলু আনসার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ছোট গোপন সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন অবস্থান জানতে চাইলে কর্মকর্তা বলেন, তিনি ওই প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানেন না। তবে আল-কায়েদাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করবে। নির্দিষ্ট ওই প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানা না থাকায় সেটি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে—এমন প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করতে চায় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর খাতে বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব ব্যবস্থাগুলো সুরক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিকল্প ব্যবস্থা দিতে চায়। “আমরা বলছি না যে আপনাকে এটি বা সেটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প দিতে চাই, বিশেষ করে তাদের স্পর্শকাতর খাতগুলোতে,” বলেন তিনি।
ইমরান খানের বিষয়ে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তার মামলা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা মূলত পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমিত বলে জানান তিনি।
--
