র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে উত্থাপন

রাজনীতি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮৮৭

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) তৈরির প্রস্তাব রেখে সংসদে নতুন আইন পেশ করা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে উত্থাপন

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত সংস্থা তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি প্রস্তাবিত আইন পেশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই সংক্রান্ত বিল পেশ করেন। পরবর্তীতে প্রস্তাবটি আরও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ন্যস্ত করা হয় এবং আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এই বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা, সংগঠিত অপরাধ ও উগ্রবাদ দমন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি দক্ষ ও যুগোপযোগী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর ঢাকায় নতুন এই ইউনিটের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যূনতম অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই সংস্থার প্রধান বা মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে বা পদায়নের মাধ্যমে সংস্থাটি গঠন করা হবে।

প্রস্তাবিত সংস্থাটি মূলত জননিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, গুম প্রতিরোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মানবপাচারের মতো মারাত্মক অপরাধ রোধে কাজ করবে। সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মীরা তল্লাশি, মালামাল আটক ও গ্রেপ্তারের অধিকার পাবেন, যা ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে। আটক ব্যক্তি বা জব্দকৃত সম্পদ নিজস্ব হেফাজতে না রেখে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ইউনিটের সদস্যদের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য বরখাস্ত, অপসারণসহ লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনে একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের যাবতীয় জনবল, অর্থ, চুক্তি ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এসআরবির অনুকূলে স্থানান্তরিত হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন