মক্কায় কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া চার হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে নিজের বাসভবনে সংবর্ধনা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সৌদি আরবের মক্কায় ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ চারজন বাংলাদেশি হাফেজ বিজয়ী হয়েছেন। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে তাদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
উক্ত প্রতিযোগিতায় ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নূর উদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া পৃথক ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের চারজন প্রতিযোগীই পুরস্কৃত হয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সফল ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হলেও কোরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
জামায়াত প্রধান আরও জানান, গত জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই বিজয়ী হাফেজদের পাশাপাশি অতীতে এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী সকল হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
ধর্মীয় শিক্ষাকে নৈতিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, কওমি শিক্ষা ও হিফজ প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব, এটি কোনো করুণা নয়। ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে গণমাধ্যমকে এই সাফল্য সারা দেশের গৌরব হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সংবর্ধনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।
