পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক তৎপরতায় বাড়ছে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৯৬১

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি ভান্ডার থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি৭।

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক তৎপরতায় বাড়ছে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম

মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের একটি নৌবহর সান ডিয়েগোর সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হওয়ার পর থেকেই নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০২ থেকে ১০৬ ডলার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯২ থেকে ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। নিজেদের জ্বালানি চাহিদার ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করায় ভারতের বাজারেও এর ধাক্কা লেগেছে। ওমান ও দুবাই ক্রুডের ভিত্তিতে নির্ধারিত 'ইন্ডিয়ান বাস্কেট'-এর দাম সেপ্টেম্বরের শুরুতে ১০৭ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও মঙ্গলবারে তা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বহনকারী পারস্য উপসাগরীয় প্রধান পথটি কার্যত হুমকির মুখে। বিকল্প হিসেবে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি রয়েছে। অন্যদিকে সুয়েজ খাল ও আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতে তেল আনা হলে ১০ থেকে ১৫ দিন বাড়তি সময় লাগবে। 'ফ্রি অন বোর্ড' পদ্ধতির কারণে এর ফলে বিমা ও পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতা দেশকে বহন করতে হবে।

সম্ভাব্য এই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কাটাতে জি৭ জোটভুক্ত দেশগুলো যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী চার মাসে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার জরুরি ভান্ডার থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর অংশ হিসেবে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন