পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেখা মিলল অতি বিরল প্রজাতির ভুজঙ্গ পাখির

বাংলাদেশ ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৮৫০

দুই যুগের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবনে অতি বিরল পরিযায়ী পাখি ‘ভুজঙ্গ’ বা কাকঠুঁটো ফিঙের দেখা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে সচরাচর দেখা না মেলা এই পাখিটি মূলত তথ্য-অপ্রতুল হিসেবে বিবেচিত।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেখা মিলল অতি বিরল প্রজাতির ভুজঙ্গ পাখির

বাংলাদেশে অতি বিরল হিসেবে পরিচিত ‘ভুজঙ্গ’ বা কাকঠুঁটো ফিঙে পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবনে। দেশে এই পাখির উপস্থিতির রেকর্ড ১০ টিরও কম থাকায় পাখি পর্যবেক্ষকদের একটি বিশেষ দল গত ১৫ অক্টোবর রাতে পরিযায়ী পাখি অনুসন্ধানে নামেন।

অভিযানটির অংশ হিসেবে আট সদস্যের দলটি কুয়াকাটার লেম্বুর বন এবং তার আশেপাশের বাদাবন ও ঝাউবনে তল্লাশি চালায়। অনুসন্ধানের দ্বিতীয় দিনে বনের গভীরে অন্যান্য পাখির ভিড়ে ছোট ও শক্ত চঞ্চুর একটি ভিন্নধর্মী ফিঙে জাতীয় পাখির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পর্যবেক্ষণ ও ছবি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে পাখিটি একটি ভুজঙ্গ বা কাকঠুঁটো ফিঙে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংরেজি ‘ক্রো-বিল্ড ড্রোঙ্গো’ নামের এই পাখিটি মূলত পন্থ-পরিযায়ী স্বভাবের। এরা প্রতি বছর অক্টোবর মাসে খুব অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে আসে। এর পূর্বে এটি কক্সবাজারের ইনানী ও ডুলাহাজারা ছাড়াও কাপ্তাই, হাজারিখিল, লাউয়াছড়া, করমজল এবং কুয়াকাটায় দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও পাখিটির আনাগোনা দেখা গেছে।

শারীরিক মাপে ভুজঙ্গ ২৭ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ওজন ৪৪ থেকে ৬৮ গ্রাম হয়ে থাকে। চকচকে কালো রঙের এই পাখির লেজের শেষ প্রান্ত সাধারণ ফিঙের মতো গভীরভাবে চেরা নয়। এদের চোখ গাঢ় বাদামি এবং ঠোঁট, পা ও নখ কুচকুচে কালো। সাধারণত অনভিজ্ঞ বা কমবয়সী পাখির বুক ও পেটে ছাই-সাদা রঙের ছোট ফোঁটা দেখা যায়।

এরা সাধারণত চিরসবুজ বন, পাতাঝরা অরণ্য ও বাদাবনের ঝোপঝাড়ের নিচে বাস করে। খাদ্য হিসেবে এরা পোকামাকড়, ব্যাঙ ও ছোট সরীসৃপ গ্রহণ করে। এপ্রিল থেকে জুন মাসের প্রজনন মৌসুমে এরা হিমালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনের গাছে বাসা তৈরি করে তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। দম্পতি মিলে বাসা তৈরি করলেও কেবল স্ত্রী পাখিই ডিমে তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন