জনভোগান্তি দূর ও গণভোটের দাবিতে এনসিপির চট্টগ্রামমুখী লং মার্চ
জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রামমুখী লং মার্চে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

জনদুর্দশা লাঘব এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ কথা জানান। এর আগে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এ যাত্রা শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতাসীনেরা দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরদাম নিয়ন্ত্রণসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সরবরাহ নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটেছে এবং সংসদে উত্থাপিত জনগণের দাবিগুলোকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অচলাবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বারবার দাম বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎ সংকট কাটেনি। দেশের গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের বিলম্ব নিয়ে সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যাকে জনগণের বাস্তব কষ্টকে অবহেলা করার মানসিকতা বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া সার সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং গ্যাসের অভাবে শিল্প কারখানা বন্ধের পাশাপাশি গৃহস্থালি রান্নাবান্নায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা জানান, বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে চলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর আক্রমণে এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনা টেনে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—কোথাও মানুষ এখন নিরাপদ নয়। এমনকি চারণভূমিতে মহিষ চরাতেও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত আসামিরা আদালতে ছাড় পাচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনকে বসানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত আইনগুলোকে দুর্বল করে অপরাধীদের বিচারে সুযোগ কম রাখা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ আনেন। দেশজুড়ে সৃষ্ট এই জনদুর্দশা নিরসনে ও দাবি আদায়ে তারা চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।
