ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব
ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতিদের হটাতে এক লাখ সেনার বিশাল বহর নিয়ে নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও বেশ কয়েকটি সীমান্তে এই জোরালো হামলা চালানো হতে পারে।

ইয়েমেনের কৌশলগত জলপথ পুনরুদ্ধার এবং সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে একযোগে শক্তিশালী আক্রমণের চূড়ান্ত ছক কষছে রিয়াদ। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানপন্থি হুতি গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করাই এই বিশাল সামরিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনজুড়ে এই বহুমুখী অভিযান শুরু হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রিয়াদের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় থাকা ইয়েমেনি বাহিনীর প্রায় এক লাখ সদস্য এই স্থল হামলায় অংশ নেবে। সৌদি বিমানবাহিনী এতে পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ও সমর্থন জোগাবে। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও পশ্চিমের বা আঞ্চলিক কোনো মিত্র দেশের সরাসরি স্থলযুদ্ধে নামার পরিকল্পনা নেই।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আধিপত্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালি দখলে নেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বেশি জটিল আকার ধারণ করে। বিশ্ববাণিজ্যে এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায়, অঞ্চলটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পর্যন্ত কোনো নতুন রাজনৈতিক সমঝোতায় না যাওয়ার অবস্থান নিয়েছে রিয়াদ।
এই অভিযানে নামার ক্ষেত্রে সৌদি সামরিক কমান্ডাররা মূলত দুটি কৌশল বিবেচনা করছেন—প্রথমত, কেবল বাব আল-মানদেবসহ উপকূলীয় এলাকা শত্রুমুক্ত করা; আর দ্বিতীয়ত, আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেটে একসঙ্গে সমন্বিত সর্বাত্মক আক্রমণ চালানো।
অভিযানের পাশাপাশি নিজেদের তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে রিয়াদ। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে আসা পাকিস্তানের ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা সৌদি সীমানা রক্ষা এবং সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও ড্রোনভর্তি চারটি কার্গো বিমান ইয়েমেনের এডেন বন্দরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের সামরিক সুরক্ষাবাহিনী ও তুর্কি ড্রোন লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ভেতরের বিভেদ সামলে এই এক লাখ সেনাকে মাঠে কতটা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তার ওপরই এ অভিযানের সফলতা নির্ভর করছে।
