ইউরোপে সাতটি উড়োজাহাজে বোমাতঙ্ক, বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্বেগ
ইউরোপের বিভিন্ন রুটের সাতটি বিমানে বোমার হুমকি ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষে কোথাও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উড্ডয়নরত ও অবতীর্ণ সাতটি উড়োজাহাজে বোমার আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ তল্লাশি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সুরক্ষার স্বার্থে একাধিক ফ্লাইটের গতিপথ বদলে নিকটস্থ বিমানবন্দরে নামানো হয়। তবে তল্লাশি শেষে কোনো বিমান থেকেই কোনো ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
ইতালির রাজধানী রোমে অবতরণের পর বিমান পরিবহন সংস্থা রায়ানএয়ারের দুটি উড়োজাহাজে অনুসন্ধান চালানো হয়। এর মধ্যে ডাবলিন থেকে আসা একটি বিমানকে ইতালীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। একইভাবে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে পৌঁছানো দুটি বিমানেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। লন্ডনের হিথ্রো থেকে যাত্রা করা একটি উড়োজাহাজে হুমকির বার্তা পাওয়ার পরপরই সেটির দিক পরিবর্তন করে ওয়ারশতে নামতে বাধ্য করা হয়।
বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় পৌঁছানো আরও দুটি উড়োজাহাজে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। অনুরূপ ঘটনার মুখোমুখি হয় স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দরও। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে যাওয়া একটি ফ্লাইট সেখানে নামার পরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ভেতরে ঢুকে অনুসন্ধান চালায়। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে কোনো বিস্ফোরকের অস্তিত্ব ছিল না। ওই বিমানের এক যাত্রী জানান, অবতরণের পরপরই বিশেষজ্ঞ টিম চলে আসায় ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত সোমবার লন্ডনের লুটন থেকে সোফিয়াগামী অপর একটি ফ্লাইট বোমার সংকেত পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে জরুরি অবতরণ করে। একই সময়ে ইউরোপজুড়ে এসব বিভ্রান্তিকর বার্তার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে কারা বা কোন্ উৎস থেকে এসব হুমকি ছড়ানো হয়েছে, তা এখনো উদঘাটন করা যায়নি।
