ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জামায়াতের
জেলা ও সিটির পর ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ভোট না দিয়ে এভাবে দলীয় লোক বসানোকে স্থানীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হিসেবে দেখছে দলটি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার এক বার্তায় দলটির মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন নিশ্চিত করার বদলে সরকার ভোট পিছিয়ে দিতে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
জামায়াত নেতৃত্বের মতে, সারাদেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নের মধ্যে তিন শতাধিক পরিষদ বর্তমানে ভোটগ্রহণের উপযোগী। অথচ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার ধারাবাহিকভাবে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক পদে বসিয়ে চলেছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের শামিল। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গত দু’মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়নে প্রশাসক দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সদ্য গঠিত ৭টি ইউনিয়নও রয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের ১৯টি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতাকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ দিনের জন্য কেবল একবারই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যায়। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া এই সময়সীমা বাড়ানোর আইনি সুযোগ নেই। জামায়াতের দাবি, নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক বসানো জনগণের সাথে প্রতারণা এবং দলীয় সুবিধা হাসিলের অপচেষ্টা। তাই অবিলম্বে সবপর্যায়ে ভোট আয়োজনসহ নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
