NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক


খবর   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি
জসিম মল্লিক


বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরষ্কার ২০২২ এর জন্য আমাকে  এবং মার্কিন লেখক ক্যারোলিন রাইটকে মনোনিত করা হয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি আমার জন্য যে কত বড় ঘটনা সেটা আমার চেয়ে আর কেউ বুঝবে না। এরচেয় বড় প্রাপ্তি আর নাই আমার জীবনে। আমি শৈশবকাল থেকে শুধু লেখকই হতে চেয়েছি। অনেক টানাপোড়েন আর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। না খেয়ে সেই পয়সা দিয়ে পত্রিকা কিনেছি, এনভেলাপ কিনেছি পত্রিকায় লেখা পাঠানোর জন্য। বড় বড় লেখকদের বই পড়ে সবসময় ভাবতাম কিভাবে মানুষ লেখে! কিভাবে চরিত্রগুলো হাসে, কাঁদে, জীবন্ত হয়ে উঠে! আজও এটা একটা বিস্ময় আমার কাছে। আজও লেখকরা আমাকে কাছে এক স্বপ্নের জগতের মানুষ। আমি জানতাম না কখনও  আমি লিখতে পারব, আমার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, কখনও জানতাম না আমার বই কেউ প্রকাশ করবে, কখনও জানতাম না আমার বই পাঠকরা কিনবে বা আমাকে ভালবাসা দেবে। আর  লেখালেখির জন্য পুরষ্কার পাওয়া ছিল চিন্তারও বাইরে।

বাংলা একাডেমি নামটি আমার কাছে বিরাট আবেগের। প্রতি বছর বিদেশ থেকে একুশের গ্রন্থমেলায় ছুটে যাই আমি। এজন্য আমি কতবার চাকরিও হারিয়েছি। যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন থেকেই বিচিত্রার জন্য বইমেলার রিপোর্ট করতাম। সেই থেকে বাংলা একাডেমি আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। ১৯৯৩ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার থেকে বইমেলায় উপস্থিত থাকায় ছেদ পড়েনি। আমি ঢাকা এসেছিলামও লেখালেখি করব এই আশা নিয়ে। মা অনেক কান্না কাটি করেছিলেন, বলেছিলেন শুধু গল্পের বই পড়ে, বাপ মরা ছেলে লেখাপড়া না শিখলে খাবে কি! বাড়ির অনেকেই আমি গল্পের বই পড়ি বলে মনে করত আমি নষ্ট হয়ে গেছি। কিন্তু মা কখনও আশা ছাড়েননি। মা পড়তে পারতেন না। একদিন বললেন, তুমি নাকি লিখ! কি লিখ! আমাকে পড়ে শুনাও। আমার মায়ের মতো স্ত্রী জেসমিনও একদিন জিজ্ঞেস করল, তুমি কি লিখ, ততদিনে আমার প্রায় তিরিশটি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে। জেসমিন এখন ঢাকায়। যখন তাঁকে খবরটা বললাম সে আনন্দে কেঁদে ফেলল!

আমার এই দুর্গম পথ চলায় আমার যে কয়জন বন্ধু লেখালেখির জন্য আমাকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, আমার পাশে থেকেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ আমার প্রকাশক ও পাঠকদের। পুরষ্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। বিশেষকরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিস্বত্তার কবি শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার নাম বিবেচনা করার জন্য।
টরন্টো ১১ অক্টোবর ২০২২