NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল হায়দার মোহনের ত্রয়োদশ প্রয়াণ দিবস ২৩ মার্চ


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল হায়দার মোহনের ত্রয়োদশ প্রয়াণ দিবস ২৩ মার্চ

 বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মাহবুবুল হায়দার মোহনের ত্রয়োদশ প্রয়ান দিবস ২৩ মার্চ  মাহবুবুল হায়দার মোহন মুক্তিযোদ্ধা,গণসংগীত শিল্পী প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার টানেই একদিন হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর প্রথম পর্ব শেষ করার পর তিনি আর পড়াশুনো করেননি ।  জন্মগত ভাবেই মোহনের মধ্যে ছিল সংগীতের প্রতি প্রবল আকর্ষণ। চট্টগ্রাম সংগীত পরিষদের একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই শুরু করেছিলেন আনুষ্ঠানিক চর্চা। কিন্তু পরবর্তীতে পরিবেশ এবং পরিস্থিতির কারনে তাঁকে এক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার বিপরীতে প্রতিবাদী সংস্কৃতি চর্চায় মনযোগী করে তোলে। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে সম্মিলিত ২১শে উদযাপন কমিটি গঠিত হলে তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী পুনরায় সংগঠিত করার মাধ্যমে সেখানে বেশ কয় বছর অত্যন্ত মুখ্য ভুমিকা পালন করেন। নানান প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়েও মোহন এই সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।  ১৯৮৩ সাল থেকে মাহবুবুল হায়দার মোহন ঢাকায় স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে এই সময় তিনি প্রায় নিস্ক্রিয় ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীকে সচল করার কাজে হাত দেন।১৯৮৪ সালের ডিসেম্বর এ বিখ্যাত সাংস্কৃতিক বাক্তিত্ত কাজি বাহাউদ্দিন আহমেদকে আহবায়ক করে সেগুন বাগিচার একটি বাড়িতে ক্রান্তি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেন। ৬০ সালে ক্রান্তির অন্যতম মূল প্রতিষ্ঠাতা কামাল লোহানী , আমানুল হক এবং অন্যান্যদেরকেও এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেন। । নব গঠিত ক্রান্তি ৮৫ সালে প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। । এরপর থেকে ক্রান্তির যে অগ্রযাত্রা তা অব্যাহত রয়েছে।গেলো বছর তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শ্রদ্ধেয় শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলিকে ‘মাহবুবুল হায়দার মোহন পদক’ প্রদান করা হয়।  দেশ বরেণ্য কবি মাহবুবুল আলম চৌধুরী আমৃত্যু ক্রান্তির সভাপতি থেকে এই সংগঠনকে মহিমান্বিত করেন। তাঁর আগে সাইয়িদ মোয়াজ্জেম হোসেন ও কিছুকাল ক্রান্তির সভাপতি ছিলেন। জনাব মাহবুবুল আলম চৌধুরী র প্রয়ানের পর মাহবুবুল হায়দার মোহন ও আমৃত্যু ক্রান্তির সভাপতি ছিলেন।মরহুম মোহনের জন্ম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে । তাঁর পিতা মরহুম আমিন উল্লাহ মজুমদার ব্রিটিশ রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।। বাবার চাকুরীর কারনে তাঁর শৈশব কাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ।  জীবদ্দশায় জনাব মোহন গান বাজনা সংগঠন করতেই বেশীর ভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি নিজের একক অ্যালবাম প্রকাশ করার দিকে কোনদিন নজর দেননি। তাঁর প্রকাশিত অ্যালবাম এর ভেতর অন্যতম হোল জাগরণের গান “ আমার ভালোবাসার স্বদেশ’ গণসংগীত “ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে” ইত্যাদি। তাঁর কণ্ঠে রেকর্ডকৃত কিছু দেশের গান বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল প্রায়ই প্রদর্শন করে থাকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি থাইল্যান্ড এবং ভারতে চিকিৎসা গ্রহন করেন। তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে আসাদুজ্জামান নূর , নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুস, হাসান আরিফ সহ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং ক্রান্তির প্রতিটি কর্মী আপ্রান চেষ্টা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা মোহনের চিকিৎসা সাহায্যার্থে নিউ ইয়র্কে সাউথ এশিয়ান মিউজিক সোসাইটি বিশেষ বেনেফিট কনসার্টের আয়োজন করে। নিউ ইয়র্ক বসবাসরত স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠ যোদ্ধা শহীদ হাসানের লেখা এবং সুরে ‘ লক্ষ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে’ গানটি মাহবুবুল হায়দার মোহনের কণ্ঠে ব্যপক সমাদৃত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল হায়দার মোহনের দেশে ও প্রবাসে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের যথারীতি আয়োজন করা হয়ে থাকে।  তাঁর জন্য মরনোত্তর একুশে পদক প্রস্তাবনা করা হয়েছিলো কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানা গেছে !