NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
‘আজ শুধু প্রেমের কথা হবে: তপুর গান’ – নিউইয়র্কে এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবির মাঝে বাবার ছবি দেখে থমকে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী দূরত্বের ভার বহন করতো যে চিঠি আকবর হায়দার কিরণের দ্য স্মেল অব লেটার্স কবিতার ইতিবাচক পাঠ সানিসাইডের কবিতার মঞ্চে কবিতায়, কথায় ও শিকড়ের স্মৃতিতে মনিজা রহমান বাংলাদেশে ৫৫ বছরে ২২ প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছুপ্পু '৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ': বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত চিত্র ও বাস্তবতা : কাজী আসমা আজমেরী আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড
Logo
logo
অনুগল্প

মাতৃভাষা বাংলা : হৃদয়ে ও মগজে ধারণ করি


খবর   প্রকাশিত:  ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

মাতৃভাষা বাংলা : হৃদয়ে ও মগজে ধারণ করি

মাতৃভাষা বাংলা : হৃদয়ে ও মগজে ধারণ করি

নন্দিনী লুইজা

অঙ্গলা অরণ্য দুই বোন। পিঠাপিঠি বড় হয়ে উঠছে। তাদের মা তাদেরকে একে অপরের পরিপূরক করে বড় করার চেষ্টা করছে। তারা মা-বাবার কাছে, পাঠ্যবই, বিভিন্ন সৃজনশীল বইয়ে এবং প্রতি বছর শহীদ মিনারে গিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জেনেছে। একটু বড় হয়ে যখন স্কুলে পড়তো তাদের মা নন্দিনী তাদেরকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে-ভাষার বিষয়ে তাদেরকে অংশগ্রহণ করাতো। সেখানে বাংলা ভাষা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা, ছবি আঁকা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার নিয়ে আসতো। দিনটাকে প্রচন্ডভাবে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করে উদযাপন করতো। এমনকি মায়ের সঙ্গে তারা প্রতি বছর শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে বড় হয়েছে।

করোনাকালীন সময়, কিন্তু আগামীকাল শহীদ দিবস। দুই বোন চিন্তা করল এবার যেহেতু শহীদ মিনারে যাওয়া হচ্ছে না তাহলে আমরা আমাদের মহল্লায় একটা শহীদ মিনার তৈরি করব। আঙ্গনা প্রাঙ্গণার বাবা বলছিল তোমরা মেয়ে মানুষ মাটি কাদা কোথায় পাবে এই শহর এলাকায়?? রাতে এলাকায় লোক থাকবে না কি ভাবে কি করবে। সরাসরি নিষেধও করছে না। কিন্তু ওদের মা বলেছিল অবশ্যই পারবে, আমি সহযোগিতা করব। 

ঠিক রাতে দুই বোন এলাকার কিছু বস্তি ছেলেদের সাথে নিয়ে মাটি কাদা সংগ্রহ করে ফ্ল্যাটের সামনেই একটা শহীদ মিনার তৈরি করল। মেয়ে দুটোর দেশের প্রতি, ভাষার প্রতি ভালোবাসা দেখে মা বেলকনি থেকে তাদেরকে উৎসাহিত করছিল। অঙ্গনা অরণ্যের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। মহল্লার ছেলেগুলোকে নিয়ে এত চমৎকার করে শহীদ মিনার তৈরি হয়ে গেল। ছেলে গুলো কাজে সহযোগিতা করেছে তাই তাদের কে উৎসাহিত করার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারিতে মা নন্দিনী খিচুড়ি রান্না করে সবাইকে নিয়ে খেয়েছে। ওদের মা চেষ্টা করেছে সন্তানদের মধ্যে দেশপ্রেম, মাতৃভাষা, স্বাধীনতাকে বুকে লালন করাতে। 

আজকে মনে হয় তারই প্রতিফলন। সকালে দেখা গেল এলাকার অনেক লোকজন তৈরি করা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থেকে অনেক কে বলতে শুনেছে মহল্লার মধ্যে মাটি কাদা দিয়ে কারা এই শহীদ মিনার মাতৃভাষাকে ভালোবেসে তৈরি করল।