NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বে তরমুজ উৎপাদনে শীর্ষে চীন


মশিউর আনন্দ প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

বিশ্বে তরমুজ উৎপাদনে শীর্ষে চীন
গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে ঠাণ্ডা তরমুজ খাওয়া চীনাদের একটি অভ্যাস। তাই তরমুজ গ্রীষ্মের একটি জনপ্রিয় ফলে পরিণত হয়েছে। চীনারা তরমুজকে কতটা ভালবাসে এবং কীভাবে তরমুজ চাষ করে? ২০২০ সালে চীনে তরমুজ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯শ টন। তা বিশ্বের তরমুজ উৎপাদনের মোট পরিমাণের ৫৯.২৯ শতাংশ। ফলে চীন তরমুজ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। এখানে দেখা যায়, দ্বিতীয় থেকে দশম স্থানে থাকা দেশগুলোর তরমুজ উৎপাদনের পরিমাণ যোগ করলে চীনের উৎপাদন পরিমাণের মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ হয়। কারণ চীন একাই বিশ্বের ৬০ শতাংশ তরমুজ উৎপাদন করে। তবে, ২০২০ সালে চীন ৯৭ হাজার টন তরমুজ আমদানি করে। আর একই বছর চীনের তরমুজ রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৪ হাজার টন। এ থেকে বোঝা যায়, চীনারা কত বেশি তরমুজ খায়।   যদিও চীনের তরমুজ চাষের ইতিহাস খুবই পুরনো। তবে, অতীতে চাষের জমির আয়তন খুব বেশি ছিল না। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার সময় চীনে তরমুজ চাষের জমির আয়তন ৬৭ হাজার হেক্টরের কম ছিল। তখন কেবল দক্ষিণ চীনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তরমুজ চাষ হত। তখনতরমুজেরমান ও উৎপাদনের পরিমাণ ভাল ছিল না এবং কেবল গ্রীষ্মকালে তরমুজ পাওয়া যেত। গত শতাব্দীর ৭০-এর দশক থেকে কৃষি-জমির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি, সূক্ষ্ম জাতের প্রবর্তন, প্রজনন এবং প্রচারের পাশাপাশি উন্নত সার ও উদ্ভিদ প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে চীনে তরমুজের ফলনের স্তর এবং গুণগত মান একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে উন্নত হয়েছে। তারপর ৮০-এর দশকে তরমুজ চাষ চীনে দ্রুত বাড়তে থাকে। রসালো এ ফলের প্রজাতিও বাড়তে থাকে। ভাল প্রজাতির তরমুজ সারা চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ৯০-এর দশকে তরমুজ উৎপাদনের পরিমাণ ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে বিংশ শতাব্দীর ৯০-এর দশকে তরমুজ চাষের জমির আয়তন স্থিতিশীল হয় এবং সারা বছর চাষ সম্ভব হয়। গ্রীনহাউসে তরমুজ চাষও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন থেকে চীনারা বছরের যে কোন সময়ে তরমুজ খেতে পারছে। একবিংশ শতাব্দীতে ফলের রাজা থেকে স্বাস্থ্যকর ফলে পরিণত হয় তরমুজ। বড় তরমুজের তুলনায় লোকজন মাঝারি ও ছোট আকারের তরমুজে বেশি পছন্দ করে। পাশাপাশি, জৈব তরমুজ, সবুজ খাবার তরমুজও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আজকাল চীনের তরমুজ শিল্পের সমৃদ্ধিতে সরকারের সমর্থন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিনিয়োগ বড় অবদান রাখছে। বিংশ শতাব্দীর ৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকে চীন তরমুজ গবেষণা ও উত্পাদন উন্নয়নের উপর বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ২০০৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রতিষ্ঠিত হয় চীনা জাতীয় তরমুজ ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার এবং ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তরমুজ শিল্প প্রযুক্তি ব্যবস্থা। প্রযুক্তির সাহায্যে এখন মানুষের চাহিদা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের তরমুজ চাষ হচ্ছে। যেমন: অনেকে তরমুজের বীজ পছন্দ করেন না; তাই বিজ্ঞানীরা বীজহীন তরমুজ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। গত শতাব্দীর ৮০-এর দশকে প্রতি বছর চীন বিদেশে ৩০ হাজার টন বীজহীন তরমুজ রপ্তানি করত। কেউ কেউও আবার বীজসহ তরমুজ খেতে পছন্দ করেন। তাদের চাহিদা পূরণে বেশি বীজের তরমুজের গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তরমুজের খালি বীজও খাওয়া যায়। মিষ্টি তরমুজ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়, তাই তাদের জন্য বিশেষভাবে স্বল্প মিষ্টির তরমুজও আছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাহায্যে চীনারা এখন সারা বছর তরমুজ খেতে পারে এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী বড় বা ছোট, মিষ্টি বা হালকা মিষ্টি, বীজহীন বা বেশি বীজের নানা ধরনের তরমুজ খেতে পারে। আমরা তাকে তরমুজ খাওয়ার স্বাধীনতা বলে ডাকি। আর ভবিষ্যতে তরমুজ শিল্পেরও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সূত্র:সিএমজি।