NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

বিভিন্ন দলে নানা ‘পাপিয়া’, যুবনেত্রীদের হেনস্থা কার্যত জলভাত


খবর   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

বিভিন্ন দলে নানা ‘পাপিয়া’, যুবনেত্রীদের হেনস্থা কার্যত জলভাত

বিভিন্ন দলে নানা ‘পাপিয়া’, যুবনেত্রীদের হেনস্থা কার্যত জলভাত, কী মত মহিলা রাজনীতিক, মনোবিদের? প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, যুবনেত্রীদের সঙ্গে অল্পবয়সি কোনও নেতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সেই সম্পর্ক কোনও কারণে বিগড়ে গেলেই ‘হেনস্থা’র ঘটনা ঘটছে। কোথাও আবার চাপ দেওয়া বা নিগ্রহের অভিযোগও উঠছে। রাজপুর-সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার। রাজপুর-সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার। —গ্রাফিক সনৎ সিংহ।  রাজনীতিতে কি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা, আগ্রাসী মনোভাব ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে? শুক্রবার রাজ্যের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া দু’টি ঘটনার পর সেই প্রশ্নই নতুন করে উঠছে। শুক্রবার দু’টি ঘটনা সামনে এসেছিল। এক, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার অভিযোগ করেন, দলেরই এক যুব নেতা তাঁকে হেনস্থা করছেন। দুই, শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ জগৎবল্লভপুরের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা মৌসুমী পাল (৩৩)-এর ঝুলন্ত দেহ মেলে তাঁর ঘর থেকে। মৃতার পরিবারের লোকেদের দাবি, মৌসুমীর প্রেমিক ছিলেন ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান গৌতম বেরা। ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে মৌসুমীর সম্পর্কের অবনতি হয়। তার জেরেই পঞ্চায়েত সদস্যা আত্মহত্যা করেছেন। 

কিন্তু এই ঘটনাকে শুধু তৃণমূল বা বাংলার নিরিখে না দেখে যদি সার্বিক ভাবে দেখা যায়, তা হলে স্পষ্ট হবে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেই এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। যুবনেত্রীদের সঙ্গে অল্পবয়সি কোনও নেতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সেই সম্পর্ক কোনও কারণে বিগড়ে গেলেই ‘হেনস্থা’র ঘটনা ঘটছে। কোথাও আবার সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়া বা নিগ্রহের অভিযোগও উঠছে। বাংলায় সেই তালিকায়, তৃণমূল, সিপিএম, বিজেপি রয়েছে। আবার ভিন্‌রাজ্যে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে— বিভিন্ন দলের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে। কোথাও দলীয় স্তরে ব্যবস্থা হচ্ছে, কোথাও তা পৌঁছে যাচ্ছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত। কোথাও আবার দলীয় স্তরে ব্যবস্থা হচ্ছেও না। প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছে। 

‘বাইরে বেরোলেই আওয়াজ, হানিমুনে যাচ্ছে!’ যুবনেতার উস্কানি দেখছেন কাউন্সিলর পাপিয়া, ‘বিরক্ত’ পুরপ্রধান রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপিয়া হালদারের অভিযোগ, তাঁকে অনেক দিন ধরেই বিরক্ত করছেন যুব তৃণমূলের নেতা প্রতীক দে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘২০২০ সালে করোনা পরবর্তী সময় থেকে প্রতীক এবং আরও কয়েক জন তৃণমূল নেতা অসাধু কাজে যুক্ত হন। এবং আমাকে তাঁদের শিখণ্ডি হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেন।’’ পাপিয়ার কথায়, ‘‘প্রতীক আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং আমি তা প্রত্যাখ্যান করি। কিন্তু তার পর থেকে উনি আমাকে নানা ভাবে অপদস্থ করতে থাকেন।’’ কাউন্সিলরের অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে মত্ত অবস্থায় লোকজন নিয়ে ঢুকে গালাগালি এবং খারাপ ব্যবহার করা হয়। পাপিয়ার অভিযোগ, ক্রমাগত তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। প্রতীকের পাল্টা দাবি, তৃণমূল কাউন্সিলর পাপিয়া কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘উনি দামি গাড়ি চড়ছেন, উইক এন্ডে (সপ্তাহান্তে) পার্টি করছেন। কিন্তু ওয়ার্ডের কোনও কাজ করছেন না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মী এবং সমর্থকেরা।’’ যুব নেতার অভিযোগ, ‘‘কাউন্সিলর সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’’ 

সিপিএমেও এই ধরনের ঘটনা রয়েছে। বছর দেড়েক আগে টালিগঞ্জের এক যুব নেতার কাণ্ডে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল দলে। এক যুবনেত্রীকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তারও নেপথ্যে ছিল সম্পর্কের টানাপড়েন। সেই যুব নেতাকে সিপিএম সাসপেন্ডও করেছিল। যদিও দলের অনেকে বলেন, শাস্তি কমানোর ক্ষেত্রেও দলের একটি অংশ প্রভাব খাটিয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার এক শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী এক গৃহবধূ। সেখানে আবার কোনও শাস্তি না দিয়ে সেই নেতাকে কমিটির পদে বসানো হয়েছে বলেও দাবি অনেকের।  এই সমস্ত ঘটনাকে কী ভাবে দেখছেন মহিলা রাজনীতিকেরা? বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছে। যার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। মূল্যবোধের এই অধঃপতনের জন্য আমি লজ্জিত।’’

সিপিএমের মহিলানেত্রী কনীনিকা ঘোষ আবার এই বন্ধনীতে নিজের দলকে রাখতে চাননি। কিন্তু টালিগঞ্জ ও উত্তর ২৪ পরগনার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তাতে ‘হ্যাঁ’ না বললেও তিনি সার্বিক প্রেক্ষাপটে বলেন, ‘‘দেশ এবং রাজ্যের সরকারের পুঁজিবাদী ও উদারনৈতিক অর্থনীতির কারণেই এই অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি রয়েছে।’’  তৃণমূলের একাধিক নেত্রী আবার এ নিয়ে প্রতিক্রিয়াই দিতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য যা বলার দলের মুখপাত্ররাই বলবেন। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘এটাকে সার্বিক ভাবে দেখলে হবে না। ঘটনা ধরে দেখতে হবে। কে কোথায় দোষী, কোন সম্পর্কে কী হচ্ছে তা বলা মুশকিল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভাল আছি, ভাল থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো তো এক জন নিরীহ পুরুষেরই লেখা লাইন। ফলে সরলীকরণ করা ঠিক হবে না।’’