NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
সাংবাদিকতার শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত হানার’ হুমকি দিলেন ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হাতাহাতি ভালো আছেন হায়দার হোসেন The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স
Logo
logo

স্নিগ্ধতা কোমলতা নিয়ে আবির্ভূত শরৎকাল-- যুবরাজ চৌধুরী


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

স্নিগ্ধতা কোমলতা নিয়ে আবির্ভূত  শরৎকাল-- যুবরাজ চৌধুরী

বর্ষার অবসানে রূপময় বাংলার ঋতু পরিক্রমায় স্নিগ্ধতা- কোমলতা নিয়ে আবির্ভূত হয় শরৎকাল। বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জি অনুসারে ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস বাংলাদেশে শরৎকাল।  এ ঋতুর রয়েছে অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য। এ সময়  মেঘমুক্ত আকাশে শিমুল তুলোর মতো ভেসে চলে সাদাে মেঘের  খেয়া। চারদিক আমন ধানের সবুজ চারার ওপর ঢেউ  খেলে যায় উদাসী হাওয়া।  আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। এ সময় ফোটে গগন শিরীষ, ছাতিম, বকফুল, মিনজিরি, শেফালি, শিউলি, কলিয়েন্ড্রা, কাশফুল ইত্যাদি। দূর্বা ঘাস ভিজে যায় হালকা শিশিরে।  বিলের জলে নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে সাদা ও লাল শাপলা। এ সময় ফল হিসাবে পাওয়া যায় আমলকী, জলপাই, জগডুমুর, তাল, অরবরই, করমচা, চালতা,  ডেউয়া ইত্যাদি।  শরতের  জ্যোৎস্নার  মোহিত রূপ নিজ  চোখে না  দেখলে বোঝা যায় না । বলা যায়, শরৎ বাংলার ঋতু পরিক্রমায় সবচেয়ে মোহনীয় ঋতু।এরপর কাঠফাটা রোদ। কখনো আবার পরক্ষণেই ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিও এদিকে আছে, তো ওদিকে নেই। ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’ বাইরে গেলে কখনও স্বেদে সিক্ত, আবার কখনও বৃষ্টিস্নাত। এই তো শরতের রূপ। সোমবার (১৬ আগস্ট) পহেলা ভাদ্র। গ্রীষ্ম-বর্ষা পেরিয়ে যাত্রা শুরু করলো শ্বেত-শুভ্র ঋতু শরৎ। যে ঋতুতে আকাশ দেখে চট্ জলদি মন ভালো হয়ে যায়। ঝকঝকে কাচের মতো স্বচ্ছ নীলাকাশ, পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘমালা। আবার মুখ গোমড়া কালো মেঘের ছায়া।  শরতকে বন্দনা করতে কবিগুরু সেই কবে গুনগুনিয়ে উঠেছিলেন— ‘আজি কি তোমার মধুর মুরতি/হেরিনু শরৎ প্রভাতে হে মাতা বঙ্গ-শ্যামল অঙ্গ ঝরিছে অনল শোভাতে...’।    আর শরতের ময়ূরকণ্ঠী নির্মল নীল আকাশে শিমুল তুলোর মতো শুভ্র মেঘেদের ছুটে বেড়ানো দেখে লিখেছিলেন— ‘অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া...’।শতবর্ষ আগে কবিগুরু এমন আবেগে শরতের আগমনী বার্তা বর্ণনা করেছেন; কিন্তু মনে হয় যেন সেদিনের কথা। আজও কী টগবগে তাজা!  আষাঢ়-শ্রাবণ শেষে ভাদ্রে আসে শরৎকাল। সঙ্গে থাকে আশ্বিন মাস। এতো গেলো বঙ্গাব্দের হিসাব, খ্রিস্টাব্দের হিসাবে মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শরৎ ঋতুর পথচলা। সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোত্স্না, আলোছায়ার খেলা দিনভর— এসব মিলেই তো শরতের ছুটে চলা। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে ভেসে বেড়ায় তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতে চলে আলো-ছায়ার খেলা; এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ।  প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এ ঋতুর চরিত্রের সঙ্গে বর্ণনা করেছেন প্রিয়তমাকে। তিনি তার ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতায় লিখেছিলেন ‘এখানে আকাশ নীল—নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ ফুটে থাকে হিম শাদা—রং তার আশ্বিনের আলোর মতন’।  শরতের অন্যতম আকর্ষণ কাশফুল! নদী তীরে বনের প্রান্তে কাশফুলের রাশি অপরূপ শোভা ছড়ায়। কাশফুলের এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুঘ্রাণে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া।  অনেকের মতে, শরৎকালে নাকি ভালোলাগার অনুভবে মনটা নেচে ওঠে। ছুটির নেশা, উত্সবের নেশায় মন ছুটে যায়। কারণ, এ শরৎকালে মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ওপর সোনালি আলোর ঝলমলে রূপ দেখা যায়। প্রতীক্ষায় থাকে কৃষকরা। আসন্ন নবান্নের আশায়।  আলোক-শিশিরে-কুসুমে-ধান্যে বাংলার প্রকৃতিও খুশি। আর বাঙালির সেই প্রাণের উত্সবটা তো রয়েছেই— শারদীয় দুর্গাপূজা। শরৎ শারদীয় আরাধনায় হিন্দু সমাজকে উৎবমুখর করে, বিজয়ার বেদনায় করে ব্যথিত।  ব্যস্ত এ নগরীতে, করোনার দহনকালে আসুন হারিয়ে যাই— শরতের কাশফুল, গোধূলি, শিউলি আর জ্যোৎস্নার মধ্যে। প্রিয়জনের হাত ধরে অনুভব করি শরতের স্নিগ্ধতা।