আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হালা টমাসডোটির সম্প্রতি বিশ্ব নারী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করেছেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি চীন-আইসল্যান্ড সম্পর্ক এবং বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়নে চীনের অবদানসহ নানা বিষয়ে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, লিঙ্গসমতা ও সবুজ জ্বালানি উন্নয়নে চীন যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে- পরিবর্তন সম্ভব। সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চিত এই বিশ্বে চীনের এই অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয় বলে স্বীকৃতি দেন তিনি।

টমাসডোটির বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং লিঙ্গসমতা জোরদার করার জন্য জোরালো প্রস্তাব ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, অথচ বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় চীনের মতো বৃহৎ শক্তির একজন পুরুষ নেতা আবারও লিঙ্গসমতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং ৩০ বছর আগের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন—যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, চীনসহ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আইসল্যান্ড তার উদ্ভাবন খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশ ছোট বা বড় যা-ই হোক, সবাই বহুপাক্ষিকতাবাদকে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, “আমরা পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, সুবিধা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করব। আমাদের উচিত লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আনা।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নারী ও কন্যাশিশুদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। লিঙ্গবৈষম্য দূর করা চীনের অর্থনীতি ও সমাজের সঠিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ দূর করার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

সবশেষে তিনি বলেন, চীন ও আইসল্যান্ডের সম্পর্কের উন্নয়ন প্রমাণ করে যে, ভিন্ন সমাজব্যবস্থার দেশগুলোও পার্থক্য ভুলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। 

তথ্য ও ছবি: সিএমজি।