এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
” উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এরপর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার।
এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো.জাহিদুল আনোয়ার এছাড়া বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেনজির আহমেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. কামরুজ্জামান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার মুক্তা, আদমদিঘী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি : সভাপতি মো. মোমেনুর রহমান তালুকদার (মিম )। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন, কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম, প্রকৌশলী রিপন কুমার শাহা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম এবং বিভিন্ন দপ্তরে সরকারি কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
আদমদীঘি থানা ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, পল্লী উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে পল্লী উন্নয়নের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সুফলভোগী সদস্যদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা প্রদান করা হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্তরের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী,গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, সুফলভোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
