এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :

তারেক রহমানের নির্মিত বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে প্রতিদিন ৮শ থেকে ১ হাজার মুসল্লির ইফতার মাহফিল আয়োজন করে আসছে । দুর দুরান্ত থেকে বা অসহায় মানুষ এই ইফতার মাহফিলে অংশ গ্রহণ করেন ।   এবারের এই ইফতার মাহফিল করতে প্রতিদিন পোলাও চাউল ৫০ কেজি , একমন বুট, বুনদিয়া ৩০ কেজি মিষ্টি লাউ , কুমড়া, মটর সুটি, পেঁয়াজ,, আদা,আলু , খেজুর ও আপেল বা বড়ই থাকে মুসল্লীদের প্লেটে । তারসাথে সরবত তো থাকেই ।   সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই ইফতার বন্টনের জন্য অনেক মানুষই কাজ করেন বিনে পয়সায় । আয়োজক কমিটির তোফাজ্জল হোসেন, মনসুর রহমান, মুকুল হোসেন এবং মিঠু খলিফা জানান রমাদানে এই ইফতার খেয়ে মুসুল্লীরা যেমন তৃপ্তি পান সেগুলো দেখে আমরাও আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি পাশাপাশি ‍তিনি আরো জানান এই ইফতার মাহফিল ১৮ বছর ধরে চলে আসছে ।প্রায় ৪ একরের মত জায়গাটা ২০০৩ সালে রেলওয়ের কাছ থেকে তারেক রহমান বগুড়ার মানুষের নামাজের জন্য মসজিদ নির্মানের কাজে হাত দেন। ২০০২ থেকে বগুড়ায় যতগুলো উন্নয়ন হয়েছে তার সবগুলোতেই তারেক রহমানের অবদান ছিলো । এখানে তারেক রহমানের নাম নিয়েছি তাই আরেকটু সংষোধন করি যে জিয়া পরিবারের অবদান ছিলো।   মসজিদ নির্মান কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহে বগুড়ায় আসলে একবার হলেও এই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোজ রাখতেন। তবে এর পেছনে বগুড়ার আরেক সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মরহুম তাহের উদ্দিন চৌধুরীরও অবদান রয়েছে। তাই তারেক রহমান এই মসজিদের খোজ খবর নিতেন তখন তাহের চৌধুরীকে সেখানে তার পাশে দেখা যেত।   নির্মান কাজের অগ্রগতি চলতে চলতে এক সময় মসজিদের গম্বুজ এর উদ্বোধন করে সেটিও সমাপ্ত করেছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু বিধিবাম সারাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তারেক রহমান ,তার মা মরহুম খালেদা জিয়া ও তার ছোট ভাইকে ষড়যন্ত্র করে গ্রেফতার ও একের পর এক মিথ্যে মামলা দেয় তখনকার মীর জাফর মঈন উদ্দিন ও ফখরুদ্দিন  গংরা।  দেশবাসী সবাই দেখেছেন জিয়াউর রহমানের দুই সন্তানকে গ্রেফতার করার সময় তারা সুস্থ্য অবস্থায় হেটে হেটে গেলেন আর যখন তাদের দু ভাইকে মুক্তি দেয়া হয় তখন হুইল চেয়ারে করে বিধস্ত অবস্থায় দেশবাসীর সামনে আনা হয়। অর্থাৎ যেভাবে তাদের নির্যাতন করা হয়েছিলো তা বুঝতে বাকি ছিলো না দেশবাসীর।   এরপর দেখতে দেখতে ১৭ বছরে জিয়া পরিবার সবাই সবার কাছ থেকে বিছিন্ন। হঠাৎ করে বিএনপির নেতাকর্মিদের কাছে বজ্রপাতের মত খবর আসলো আরাফাত রহমান কোকো মালেশিয়ার কুয়ালালামপুরে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু বরন করেছেন। সালটি ছিলো ২৪শে জানুয়ারী ২০১৫ সালে। সেসময় তার বয়স হয়েছিলো ৪৫ বছর।

  অন্যদিকে তারেক রহমানের উপর একের পর এক মামলা ও আদালতের সাজানো রায় প্রচার করা হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সব সময় বলা হতো অচিরেই তাকে দেশে ফেরত এনে রায় কার্যকর করবে। তবে আল্লাহর লিলা খেলা বোঝা বড় দায় তারেক রহমান বাংলাদেশে এসেছেন আর তাকে বরণ করেছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। আর এখন তিনি এই বাংলাদেশের নিজের প্রথম নির্বাচনে বাজিমাত করে প্রথম ( পুরুষ ) প্রধানমন্ত্রী ।   সকলের ছোট করে একটা তথ্য তুলে ধরি তাহলো ২০০৮ সালে বন্ধ এই মসজিদ বগুড়ার মানুষের নামাজের কথা ভেবে খুলে দেন তখনকার বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন কবীর। এর জন্য তাকে হারাতে হয়েছিল জেলা প্রশাসকের পদ সেই সাথে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে ওএসডি করে রাখা হয়েছিলো ! অর্থাৎ শুধু তারেক রহমান নির্মাণ করেছিলেন বলেই তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।   আপনারা বগুড়াবাসী জানেন যে শহরের রাস্তায় লাগানো সোডিয়াম বাল্ব, যক্ষা রুগীদের নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতাল, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়,শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম বন্ধ করে দিয়েছে বা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের ডকইয়ার্ডের মালবাহী শতশত বগি কুমিল্লার রেল মন্ত্রী তাঁর ভাগ্নেকে দিয়ে লুটপাটের মাধ্যমে শেষ করে দিয়েছে।  সবশেষে সবার মতপোষণ করা উচিত যে, মুক্তিযুদ্ধের ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাই একমত পোষণ করবেন।