আমার একুশে আমার বাংলা
একুশকে সালাম জানাই!
২০২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশে ঘটে গেল কত কুৎসিত কাণ্ড যা বাংলাদেশের পরিচয় ও বাংলা ভাষার অস্তিত্ব নিয়ে দারুণ আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল আমার এবং অন্য সবার মনে…
আজ ২১শে ফেরুয়ারি! বাংলাদেশ রাত বারটায় নবনির্বাচিত প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি এই ‘শহিদ দিবস’ বা ‘ভাষা দিবস’ উদ্বোধন করলেন। ২১শে ফেরুয়ারি এখন ‘আন্তরজাতিক ভাষা দিবস’ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং পালন করা হয়। এই উত্তরণের কাহিনী বড় রক্তক্ষয়ী!
যদিও অতীতের মত নয়! রেশ কোর্স আর বাংলা একাডেমীর মাঠ শূন্য… কোথাও কোন নতুন বইয়ের গন্ধ নেই, বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির ভক্তরা লক্ষ লক্ষ বইয়ের পাতায় পাতায় সাজান বর্ণ মালার হৃদয়ের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছেন না। তবুও, ২১শে ফেরুয়ারি এলো! পূর্ণ আড়ম্বরে না হলেও প্রাপ্ত সম্মান এই দিনটি শেষ পর্যন্ত পাচ্ছে… এতে আমি দারুণ আনন্দিত!
বাঙালি জাতি বহুদিন যুঝেছে আত্নপ্রকাশের সংগ্রাম। ২১শে ফেরুয়ারি করেছিল তার সূচনা ১৯৫২ সালে। আজ আমরা অতি গর্বে পালন করি ২১শে ফেরুয়ারি, দেশ ভরে যায় গল্পে কথায় গানে, সে এক অনন্য আত্নপ্রকাশের বিস্ফোরণ ঘটে যেন চারদিকে...
মনে করি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা ‘বাংলা ভাষা’ – কবিতাটির প্রথম দুই সারি;
‘মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!’
আমি ১৯৭৫ সাল থেকে বিদেশে। ফিরে যাবার আর কোন আধান নেই। কিন্তু আছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ আর আমাদের প্রাণের প্রিয় বাংলা ভাষা।
আমার লেখা কয়েকটি অণুকবিতা;
১)
আমার এক কষ্ট! প্রবাসে বাস
মনে জাগে যে কি মিঠি আশ
কথা বলি বাংলায় বারো মাস
বিদেশী বুলি মারি ঠাস ঠাস
তবুও বলতে হয় সর্বদাই
এমন জীবনের তাগিদটাই।
২)
আমাদের প্রবাসী মন
জানে বাংলা কি বন্ধন
বাংলা বুলি পথ চলতে
কেউ যদি শুনি বলতে
মনে হয় সে আপনার জন
বাংলাই আমার বন্ধন।
৩)
বাংলা বর্ণমালা- এক অটুট বন্ধন
সে বর্ণমালায় রচি কত ভাবকথা
এ যেন এক অদৃশ্য প্রেমের গাঁথা
জুড়ে আছে সবার হৃদয়ের অঙ্গন
৪)
দানবেরা ভেবেছিল নিষ্ফলা
আমাদের শব্দ চাষের ভূতল
বেড়ী বেঁধে করবে নির্জলা
বাংলাভাষা করবে তারা অচল।
৫)
ওরা ফেঁদেছিল বড়ই চতুর ফন্দি,
বাংলা বর্ণমালা করবে চিরবন্দী
কারাবাসে করবে কণ্ঠ রোধ
ছিনিয়ে নেবে সবার বোধ
একুশের দীক্ষা- একুশের সুমন্ত্র
করল সুরক্ষা ভাঙল ষড়যন্ত্র
