আজ নাকি 'ডিম দিবস' - জাকিয়া রহমান

আমার কোন ধারণা ছিল না ‘ডিম দিবস’ বলে কোন দিবস আছে। থাকবে না কেন? আমি প্রতিদিন ডিমের কথাই ভাবি, সকালে যখন নাস্তার সাথে ডিম খাই তখন আমার মনে হয়, পৃথিবীতে কত মানুষ আছে প্রত্যেকে যদি একটি করে ডিম খায় তাহলে, কতগুলি ডিম উৎপাদন হতে হবে! সত্যিই অংক কষে দেখতে গেলে দেখলে, ব্যাপারটা এমন বিরাট হয়ে যায় যে, সত্যিকারে আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে। আমাকে কেন বহু মানুষকেই ডিম নিয়ে চিন্তা করতে হয়েছে। ডিমের কথা কত মানুষই না আমার বহু আগে চিন্তা করেছ। তাই এসেছে এই দিবস!
বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হলো "শক্তি ও সুরক্ষা জোগায় যে প্রোটিন" (Protein that Powers and Protects)।
ওয়ার্ল্ড এগ অর্গানাইজেশন (World Egg Organization)
তারিখ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
মাইলফলক: বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০তম বার্ষিকী (১৯৯৬ সালে ভিয়েনায় এই দিবসটি প্রবর্তিত হয়েছিল)।
অফিসিয়াল উদ্দেশ্য—ডিমের প্রোটিনের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এটি চালু করা হয়েছে।
মূল লক্ষ্য: ডিম কীভাবে উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে—তা তুলে ধরা; যা পেশির সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এমন এক সময় ছিল যখন ডিম খাওয়া মেয়েরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। কারণ বলা হতো, ডিমে নাকি প্রচুর কোলেস্টেরল রয়েছে। আছে! অবশ্যই আছে! কিন্তু এখন প্রমাণিত হয়েছে এগুলো ভালো (HDL) কোলেস্টেরল, যা আমাদের দরকার। ফ্যাট রয়েছে সাদা অংশে আর কোলেস্টেরল থাকে হলুদ অংশে, যা এককালে অনেকে সোজা বিনে ফেলে দিত। কিন্তু এটাই ডিমের সবচেয়ে ভালো অংশ।
আমি নিয়মিত ডিম খাওয়া শুরু করেছি অনেক পরে— যখন আমার বয়স প্রায় শেষের দিকে, বলতে পারেন। কেউ জানে না বয়সটা কখন শেষ হবে, ধরে নিচ্ছি আমি এখন শেষ বয়সের মানুষ। দেখা গেল, আমি সব সময় হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতায় ভুগি। মাঝে মাঝে আয়রন ট্যাবলেট খেতে হতো, কিন্তু বয়স যত বাড়লো এই আয়রন হজম করা দারুন কঠিন হয়ে গেল। ডাক্তার যখন জানলো আমি কখনো ডিম খাই না শুনে উনি আকাশ থেকে পড়লেন আর বললেন, তোমাকে প্রতিদিন দুটা করে ডিম খেতে হবে। দুটো করে ডিম! তাহলে, আমি অসম্ভব মুটিয়ে যাব। ডাক্তার বললেন, শুরু করো তারপর দেখা যাবে।
আবার চোখের সামনে বিরাট অংকটা ভেসে উঠলো তাহলে, সারা দুনিয়ার মানুষ যদি দুটো দিন করে খায় প্রতিদিন তাহলে, কতগুলি লাগবে? যাকগে, আমি একটাতেই শুরু করলাম। বেশ বছর দুয়েক পর আমার হিমোগ্লোবিন বাড়তে শুরু করল। আমি তেমন চর্বিওয়ালা জিনিস কখনো খাই না দেখা গেল, আমার ডিম খাওয়াতে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয়নি। আরো দিন গেল, আমি এখন দৈনিক দুটো করে ডিম খাই। নাস্তা খেতে খেতে আবার অংক কষি! ভীত হই দুনিয়াতে ডিমের অবস্থা দেখে… কত বড় সংখ্যা!
এই ব্যাপারটা অবশ্যই অনেক আগেই ফুড টেকনোলজিস্টরা একটা বিরাট বিপ্লব এনে দিয়েছে। এখন মুরগিদের ডিম পাড়ার সামর্থ্য অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে নানা রকম ভালো স্বাস্থ্য, ভালো হরমোন মেশান খাদ্য খাওয়ান হয় ও স্বাস্থ্য পরিবেশে লালন করা হয়। এতে ডিমের সুপ্রাপ্যতা দারুণভাবে বেড়েছে। অবশ্যই এতে ডিমের স্বাদ কমে গেছে। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না ডিমের মধ্যে যে পুষ্টির দরকার তা কমেনি মোটেও বরং বেড়েছে।
যারা স্বাদ নিয়ে চিন্তা করেন তাদের জন্য আছে কর্ণ-ফেড চিকেন ও ফার্ম হাউস চিকেন। এ সমস্ত মুরগির অবাধে চলাফেরা করতে দিয়ে পালন করা হয়। দাম একটু বেশি হয় তবে, স্বাদের কমতি নেই।
এখন শোনা যাচ্ছে, চারকোনা ডিম বানানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করার চেষ্টা চলছে। এতে করে প্যাকেজিং এর সুবিধা হবে। ডিমের খোসাটা একটু পোক্ত করার জন্য কিছু রিসার্চ চলছে। এগুলো যখন বের হবে স্বাদে কেমন হবে আমার ধারণা নেই।
এখন বেশ হালকা রঙেরও কিছু ডিম পাওয়া যায় আর ইউরোপে সাধারণত ডিমের সাইজ বেশ বড় হয়।
এই প্রযুক্তি একটা বিরাট অর্থনৈতিক অংশ নিয়ে পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করেছে। একবার চিন্তা করে দেখেন কত মানুষ এই ডিমের ব্যবসায় রয়েছে।
আর মজার কথা, ডিম কি শুধু মানুষ ডিম হিসাবে খায়?
বেকিংএ অর্থাৎ কেক, বিস্কিট, প্যাস্ট্রিতে ক্রিম স্তর, সালাডে ব্যবহৃত হয় সালাড ক্রিম ও মেয়োনেজ বানাতে, ডিম ছাড়া হবেই না
আরো কত কাজে লাগে! মেয়েরা তাদের মুখের চামড়া টান টান রাখার জন্য ফেসপ্যাক হিসাবে ব্যবহার করে। কসমেটিক ইন্ডাস্ট্রি ডিমের সাদা অংশটা ব্যবহার করে নানা রকম প্রোডাক্ট তৈরি করে।
ডিমের খোসার ব্যবহার রয়েছে, কেলসিয়ামের জন্যে। পশ্চিমা দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ক্রিষ্টমাস ও ইস্টারের জন্য নক্সা আঁকা কিংবা সূচিকাজের ইস্টার এগ বানানোর জন্যে। ছবিতে ইস্টার এগ দেখনো হয়েছে।
মজার কথা বলি, ডিমের আরেকটা ব্যবহার আমাদের দেশে এখন প্রকটভাবে বেড়ে গেছে। লোকজন ক্ষেপে গিয়ে, যে ব্যক্তির উপর বিরক্ত হন তাদের উপর নিক্ষেপ করেন পরমানন্দে।
পৃথিবীর বহু জায়গায় শুনেছি ডিম ছোড়ার উৎসব পালিত হয়।
তাহলে, এটা সত্যই যুক্তি সঙ্গত ডিমের জন্যে আলাদা একটি দিন রেখে দেয়া। ‘ডিম দিবস’ দীর্ঘায়ু হোক!
