জাতিসংঘকে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ যুক্তরাষ্ট্রের

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — জাতিসংঘের বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার হারানোর তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কেটে গেছে।জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বুধবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার সংস্থাটির নিয়মিত বাজেটের জন্য ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। এর আগে শুক্রবার শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য আরও ১০২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে সর্বশেষ অর্থ পরিশোধের পরও জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১.৩১২ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে বলে জানান ফারহান হক। জাতিসংঘ সনদের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বকেয়া অর্থ পরপর দুই বছরের নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেলে সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারানোর বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিষদ এ বিষয়ে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারে।
জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জাতিসংঘের কার্যক্রম ও ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছে এবং বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থায় স্বেচ্ছা তহবিল কমিয়েছে। ওয়াশিংটন জাতিসংঘে আরও সংস্কার ও ব্যয় কমানোর দাবিও জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থদাতা চীন চলতি মাসের ১ তারিখে নিয়মিত বাজেটের জন্য ৬৪১.৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। বর্তমানে জাতিসংঘ আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ইউএন ৮০ (UN80) নামে সংস্কার ও ব্যয় সংকোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থ পরিশোধের ফলে আগামী ২০২৭ সালে সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকি আপাতত থাকছে না।
