‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ব্রুকলীনের সভা জনসভায় পরিণত আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবো না : কুনু নির্বাচিত হলে জবাবদিহীর সোসাইটি গড়বো : ফিরোজ

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে ব্রুকলীনে নির্বাচনী সভায় বক্তারা এই প্যানেল-কে যোগ্য ও সবার সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অঅজমল হোসেন কুনু বলেছেন, আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবো না। নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচী নিয়ে সোসাইটিকে তথা কমিউনিটিকে শক্তিশালী করবো। প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, নির্বাচিত হলে জবাবদিহীর সোসাইটি গড়বো।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউর রাধুনী রেষ্টুরেন্টে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে প্রথম বৃহৎ আকাওে নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে সভাটি জনসভায় পরিণত হয়। অনেক বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্টে বসা বা দাঁড়ানোর স্থান না পেয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সভায় অংশ নেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নাসির উদ্দিন।
বাংলাদেশ সোসাইটি ও গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি, সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি আব্বস উদ্দিন দুলাল ও ফারুক চৌধুরী, সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি ও ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহফুজুল মওলানা নান্নু, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাষ্টিবোর্ড চেয়ারম্যান হাজী মফিজুর রহমান, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার, সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সেলিম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল মওলা, উপদেষ্টা গোলাম মাহমুদ, লক্ষীপুর জেলা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোল্লা, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সহ সভাপতি ইলিয়াস আলী, কমিউনিটি নেতা টি মোল্লা, মীর মারফত উল্লাহ, এডভোকেট সেলিম, ইদ্রিস আলী, আব্দুল আওয়াল, শাহাদৎ হোসেন, মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
সভায় অতিথিবৃন্দ সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উপদেষ্টা এমডি বারী, সন্ধীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের, সহ সভাপতি আবুল কালাম লাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান ও সহ সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, ফেনী জেলা সমিতি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক এএসএম রহমতউল্লাহ, এডভোকেট আরিফু চৌধুরী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট লুৎফুল করীম, শাহাবুদ্দীন চেয়ারম্যান, আহসানউল্লাহ বাচ্চু, এস এম ফেরদৌস, ইসমত পাশা খোকন, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান সহ সাধারণ সম্পাদক কালাম ভূঁইয়া, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ কােন এম ও জি রাসেল ভূইয়া। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, ওয়ালিদুল ইসলাম ও প্রফেসর আযাদ।
সভায় আজমল হোসেন কুনু আরো বলেন, সোসাইটিতে আগেও সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছি। কিন্তু সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করিনি। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো, কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করবো না। তিনি বলেন, যেদিন সোসাইটির একাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে সেদিনই ভবন কিনবো। আমাদের ভবন রয়েছে আগে এই ভবন রক্ষা করতে হবে, ভায়োলেশন মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, সোসাইটিকে গণমুখী করতে আগামীতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জনকে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করবো, দেশের ৮ বিভাগ থেকে আরো আরো ৮ জনকে সম্পৃক্ত করে ট্রাষ্টি বোর্ড ২০ সদস্য বিশিষ্ট করা হবে। তাছাড়া ব্যয় বহুল নয়, আগামীতে সোসাইটির নির্বাচন সম্ভব অল্প ব্যয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে। সোসাইটিতে যা করা হবে তা কমিউনিটির সাথে বৈঠক করে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, পৃথিবীতে বাংলা ভাষাভাষীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। আমরা কৃষ্টাল-ক্লিয়ার জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথ দেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুত দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার জন্য প্রয়োজনে আগামীতে কার্যকরী পরিষদে পদ সৃষ্টি করার কথা জানান। তিনি বলেন, ইফতার মাহফিলের নামে অপচয় নয়, বরং অর্থ সাশ্রয় করে অনুষ্ঠান করারও প্রতিশ্রুত দেন ফিরোজ আহমেদ। এছাড়াও তিনি আরো কবর ক্রয় এবং অনলাইনে ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি বলেন, আমি একাধিকবার সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলাম। আমাদের সময় একটি ব্যাংক একাউন্ট থেকে নির্বাচনী হিসাব পরিচালনা করা হয়েছে, কিন্তু এবারই একাউন্ট পরিবর্তন করা হয়েছে, কেনো? গত নির্বাচনে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছিলাম, তার কোন বাস্তবায়ন নেই। তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিকে হিসাব দিয়ে ভোট চাইতে আসতে হবে। ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতারে খরচ হয়েছে, ২৪ হাজার ডলার ফটো কার্ড, ম্যাগাজিনে খরচ হয়েছে- তার হিসাব দিতে হবে। তিনি অজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।
মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সোসাইটির সাথে জড়িত থাকলেও প্রকাশ্যে আসিনি। ইতিপূবে সোসাইটির কোন নির্বাচনে কোন প্যানেল সমর্থন করিনি। কিন্তু বর্তমান কমটির কার্যকলাপ দেখে এবার পরিবর্তনের জন্যই ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে সমর্থন করছি। আমরা চাই সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত তিনি এই প্যানেলকে জয়ী করার আহ্বান জানান।
হাজী মফিজুর রহমান বলেন, সোসাইটিতে কে কি করেছেন তা আমরা জানি। আমরা আশা করি ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল নির্বাচিত হলে প্রবাসীদের আবেগ-অনভূতি সামনে রেখে কাজ করবেন, মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণ হবে।
সভায় বক্তারা বর্তমান কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবী, কবর ক্রয় করা না করার তীব্র সমালোচনা করেন এবং ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে একটি যোগ্য প্যানেল হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান
সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন। প্যানেলের প্রার্থী হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।
সবশেষে প্যানেলের ব্রুকলীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করেন বেলাল আহমেদ। ব্রুকলীন কমিটির কর্মকর্তারা হলেন: উপদেষ্টা- মাহফুজুল মওলানা নান্নু ও মোহাম্মদ হানিফ, চেয়ারম্যান- লুৎফুল করীম, কো চেয়ারম্যান- হাজী ইসমাইল মিয়া, আহ্বায়ক- মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, যুগ্ম আহ্বায়ক- মোহাম্মদ ইউনূস আলী, সদস্য সচিব- ওয়ালিদুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব- বাসেদ ভূইয়া, প্রধান সমন্বয়কারী- এস এম ফেরদৌস এবং সমন্বয়কারী- দলিলুর রহমান।
নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
ছবিতে দেখুন




