হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান ও ওমানের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৮৮৭

হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরান ও ওমানের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান ও ওমানের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে

পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জলযানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান। এ বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, কারণ পূর্বে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো কোনো ফি বা বাধার সম্মুখীন না হয়েই সেখান দিয়ে যাতায়াত করত।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির উত্তরাঞ্চল ইরানের এবং দক্ষিণাঞ্চল ওমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জলপথটি ব্যবহারের নিয়ম চূড়ান্ত করতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, ওমানের সঙ্গে তাদের মূল জায়গায় সমঝোতা হয়েছে এবং বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, উপসাগরে আসা-যাওয়ার সময় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে।

সমঝোতা বজায় থাকলেও তদারকির পরিধি, পরিদর্শনপ্রক্রিয়া এবং শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে কিছু দ্বিমত রয়ে গেছে। তেহরান জাহাজে পরিবাহিত পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি হিসেবে দাবি করেছে, যেখানে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছে। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ধরনের শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুনরায় সামরিক হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর জ্বালানি ও অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ পরিস্থিতি সমাধানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সমাবেশে জানান, তিনি সংঘাত ও প্রাণহানি এড়িয়ে কূটনৈতিক উপায়ে চুক্তি করতে আগ্রহী, তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের পর থেকে ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘাত চলাকালে নিজেদের ১৮ জন সেনাসদস্যের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রভাব কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় এখন রাজনৈতিক সমাধানের দিকে জোর দিতে হচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন