শিশু নিখোঁজ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাতে পরিসংখ্যান দিল পুলিশ সদরদপ্তর
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য বাদ পড়ায় সংবাদে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে সারাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে পুলিশ সদরদপ্তর। সম্প্রতি প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কতজন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সে তথ্য না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল বলে সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। স্থানীয় থানাগুলোর প্রাপ্ত উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এ সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে শিশুদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট জিডির প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে ইতোমধ্যে খুঁজে বের করে পরিবারে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরিসংখ্যানে বয়স অনুযায়ী দুটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। শূন্য থেকে নয় বছর বয়সের ৪৭৪ জন শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৬৮ জনের সন্ধান মেলেনি। এ বয়সের শিশুদের অপরিচিত জায়গায় পথ ভুলে যাওয়া, নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।
অন্যদিকে, দশ থেকে সতেরো বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩টি নিখোঁজের জিডির মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অন্তর্ধানের কারণ হিসেবে পড়ালেখার চাপ, স্বজনদের ওপর অভিমান, স্বাধীনভাবে বাস করার ইচ্ছা, অনৈতিক কাজের পর লজ্জার ভয়ে আত্মগোপন, পারিবারিক অসন্তোষ, স্বজনদের থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা ও সহপাঠীদের প্রভাবকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
অনলাইনে জিডি কার্যক্রম সুগম করার কারণে ইদানিং তথ্য নথিভুক্ত করার হার বেড়েছে। পূর্ববর্তী বছরের উপাত্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি শিশু নিখোঁজের তথ্য থানায় নথিভুক্ত হয়েছিল।
