শৈশবের দারিদ্র্য জয় করে মুম্বাইয়ে দুটি বাড়ির মালিক অভিনেত্রী মহিমা
অভিনয় জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও অপমান পেছনে ফেলে মুম্বাইয়ে দুটি বাড়ির মালিক হয়েছেন অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। মায়ের স্বপ্নপূরণের মধ্য দিয়েই বিনোদন জগতে তিনি নিজের স্থান সুদৃঢ় করেছেন।

পর্দায় সাফল্য অর্জন করলেও অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানার ক্যারিয়ারের পেছনের দিনগুলো ছিল অত্যন্ত সংগ্রামময়। বাল্যকালে অভাব-অনটনের মাঝে স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে বাসে চেপে তিনি অডিশনে যেতেন। নিজের বিশেষ আগ্রহ না থাকলেও মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি বিনোদন জগতে পা রাখেন। পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে মায়ের নিজের একটি বাড়ি পাওয়ার ইচ্ছা ছিল, যা পরবর্তীতে মহিমার পথচলার প্রধান অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়।
মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’র চিত্রায়ণে পরিচালকের কটু কথার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। অভিনয় না জেনে কেন সেটে এসেছেন—এমন কটূক্তিতে ভেঙে না পড়ে তিনি তা শক্তিতে রূপ দেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে মূল চরিত্রে কাজের সুযোগ পান। এটি ব্যাপক সাড়া ফেললে ১৪ বছর বয়সেই তিনি মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনেন।
ছোট পর্দায় তুমুল জনপ্রিয় হলেও চলচ্চিত্রে সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ‘টিভির শিল্পী’ তকমা ও বারবার প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে ২০২১ সালে সালমান খানের সাথে ‘অন্তিম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবি মুক্তির পর পারিপার্শ্বিক মানুষের আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও এর পেছনে ছিল তাঁর এক দশকেরও বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম।
প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় ও আরও বড় একটি বাড়ি কিনেছেন তিনি। ২৬ বছর বয়সে পৌঁছানো মহিমা ইতোমধ্যে তেলুগু চলচ্চিত্র, ওটিটির ‘শোটাইম’ এবং সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে দুর্দান্ত অভিনয় করে এই ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশকের সাফল্য উদ্যাপন করছেন। বাবার অনুপস্থিতি তাঁকে ব্যাকুল করলেও জীবনের সব কষ্ট জয় করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে তিনি পরম তৃপ্তি পান।
