বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন: বাংলাদেশকে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিল আঙ্কটার্ড

বাংলাদেশ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮৮৭

আঙ্কটার্ডের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি ও নীতিগত সংস্কারকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসাথে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন: বাংলাদেশকে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিল আঙ্কটার্ড

জেনেভায় সংস্থাটির বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সম্প্রতি গৃহীত নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পদক্ষেপগুলোর বিশেষ প্রশংসা করা হয়। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার নতুন বাস্তবতার আলোকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ কীভাবে নিজেদের নীতি পুনর্গঠন করছে, সে সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ ও তিউনিসিয়াকে দৃষ্টান্তমূলক মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

উক্ত সম্মেলনে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি জানান যে, নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত করা, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন ফেরত পাঠানোর নিয়ম স্পষ্টীকরণ, ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি এবং সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়িক বাধা নিরসন করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্বে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা চলছে, যার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে। এ ধরনের জবাবদিহিতার চর্চা উদ্যোগগুলোর মতোই তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল ২০১৩ সালের আঙ্কটার্ড সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন। এতে বাংলাদেশে নিয়ামক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়। আঙ্কটার্ডের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিক্রমায় গ্রিনফিল্ড খাতে বিদেশি পুঁজি আকর্ষণকারী অল্প কয়েকটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ স্থান পেয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ৩৯.৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মকানুন শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

এছাড়া আঙ্কটার্ডের দেওয়া একটি প্রধান দিকনির্দেশনা মেনে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ সেবাকে এক ছাতার নিচে আনতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে গঠিত হয়েছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন