নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: শামা ওবায়েদ
আন্তর্জাতিক সিডও দিবসের মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার রক্ষায় ৫ দফা সুপারিশ করে মহিলা পরিষদ।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬-এর এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। নারীদের সমান অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বর্তমান সরকার তৎপর রয়েছে এবং এতে ফ্যামিলি কার্ড ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়েনি এবং নতুন উঠে আসা নারী নেতৃত্বও অধিকার আদায়ে মুখর নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের আন্তর্জাতিক উপ-পরিষদ সদস্য লুনা নূর মূল নিবন্ধ পাঠ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি বা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, বরং উত্তরাধিকার ও সম্পদে সমঅধিকার প্রয়োজন। সম্পদের মালিকানা পাওয়ার সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, মর্যাদা এবং পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি জড়িত।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, নিজস্ব সম্পদ না থাকার কারণে অনেক নারী পরিবারে নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন। নারীদের এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সমর্থন জরুরি। নিজস্ব সম্পদ থাকলে নারীদের মতামত প্রকাশের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন উইমেন ফর উইমেনের জাকিয়া কে হাসান, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সালমা আলী, নারী প্রগতি সংঘের শাহনাজ সুমী, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের চন্দন লাহিড়ী এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আশরাফুন নাহার মিষ্টি।
সভায় মহিলা পরিষদের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, কৃষিকাজে নারীদের উপস্থিতি বাড়লেও জমির মালিকানায় তাঁদের নিয়ন্ত্রণ নেই। খাসজমি যৌথভাবে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে নারী অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকায় নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংকঋণ পেতেও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়ে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাঁচটি সুপারিশ করে পরিষদ। এগুলো হলো—আইন সংশোধন করে উত্তরাধিকারে সমঅধিকার নিশ্চিত করা, বৈবাহিক সূত্রে অর্জিত সম্পদ ও খাসজমিতে যৌথ মালিকানা বাধ্যবাধকতা করা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, বঞ্চিত নারীদের বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
