নতুন পে-স্কেলে বাজারে পণ্যমূল্য হঠাৎ বাড়ার ঝুঁকি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৫৮৯

আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে নতুন পে-স্কেলে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন পে-স্কেলে বাজারে পণ্যমূল্য হঠাৎ বাড়ার ঝুঁকি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের ফলে বাজারে একযোগে পণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ১১ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই বেতন সমন্বয়ের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি যৌক্তিক। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই বেতন কাঠামো চালু করা হবে। এর ফলে বাজারে একসঙ্গে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ ঘটবে না এবং কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অগ্রগতিবিষয়ক একটি আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গবেষণা সংস্থা সানেম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলীয় সরকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ফ্ল্যাক্সার যৌথ পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতেই মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে না; বরং বৈশ্বিক বাজারের দর, পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান, আমদানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এসব দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভোজ্যতেলের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দর এবং দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচের ভিত্তিতে এর দাম নির্ধারিত হয়। বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মেঘনা গ্রুপের মতো বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি মজুত আছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তর সঠিক সিদ্ধান্ত হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতা ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বর্তমানে মাত্র ১৪-১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা যাচ্ছে। তাই একটি বিশ্বমানের নতুন সিইটিপি নির্মাণ এবং পুরানোটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে। উক্ত সংলাপে অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে, ফ্ল্যাক্সার সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জু ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন