ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকার চারপাশের নদীনালার দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের নদীগুলোর পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নদী দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগসহ রাজধানীসংলগ্ন নদীগুলোর বর্তমান পরিবেশ, দূষণের প্রধান উৎস এবং সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি উপায় নিয়ে সভায় বিশদ আলোচনা হয়। কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য অপসারণ, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, খালের নাব্য হ্রাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকে দূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তরণে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও পরিবেশ আইনের কঠোর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়। সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ কাজের সুবিধার্থে পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য দপ্তরকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নদী রক্ষায় সাধারণ জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা নির্ধারিত সময় পরপর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাবে।
উক্ত সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
