জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডায় দাবানলের আশঙ্কা দ্বিগুণ বৃদ্ধির তথ্য

আন্তর্জাতিক ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৮৮৭

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কানাডায় দাবানল সৃষ্টির আশঙ্কা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও তাপদাহের কারণে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডায় দাবানলের আশঙ্কা দ্বিগুণ বৃদ্ধির তথ্য

কানাডায় খরা ও তীব্র তাপদাহের কারণে দাবানল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। ৬ আগস্ট প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) নামের একটি গবেষণা দলের প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুলাই মাস থেকে দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ ও শুষ্কতার ফলে অগ্নিকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অন্টারিও ও নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজ অঞ্চলে দাবানল মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যার ফলে কয়েক হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বিপজ্জনক ধোঁয়ার সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির প্রভাব খতিয়ে দেখতে পর্যবেক্ষণের ডেটা ও আবহাওয়ার মডেল ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে প্রতি ৪০ বছরে হয়তো একবার এমন পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে প্রতি ২ থেকে ৬ বছর পর পর এবং অন্টারিওতে প্রতি ৬ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দাবানলের অনুকূল আবহাওয়া দেখা দিতে পারে।

গবেষণাপত্রের মূল লেখক থিওডোর কিপিং উল্লেখ করেছেন, ২০২৩ সাল থেকে কানাডায় যে দাবানল দেখা যাচ্ছে, তা পরিধি ও তীব্রতার দিক থেকে পুরোপুরি নজিরবিহীন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ড যেভাবে দ্রুত নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। শুধু পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এই দুর্যোগ সামলানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করতে হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন