এইচএসসির বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
এইচএসসির এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা বিশেষ পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেলেও চলতি শিক্ষাবর্ষে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক অথবা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য চার লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পূরক পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ এবং একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলে প্রায় ছয় লাখ পরীক্ষার্থী ফেল করেন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ পরিস্থিতিতে অকৃতকার্যদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর মেডিকেল এবং ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসজুড়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও গুচ্ছভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল ৩১ ডিসেম্বরের দিকে প্রকাশিত হলে এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুরুর দিকের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তিত না হলে বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা প্রথম সারির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আবেদনের সুযোগ নাও পেতে পারেন। তবে সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের উচ্চশিক্ষার পথ খোলা থাকতে পারে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, তারা ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি সংগ্রহ করে শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবদের অবহিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, এটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা আটকে রাখা সম্ভব নয়, তবে সরকারি নির্দেশনা এলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
