উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন আনা জরুরি
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ ও কিডনির ক্ষতিসহ নানা ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি লবণের পরিমাণ কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে স্ট্রোক, হূদ্যন্ত্রের ব্যাধি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সুস্থ পরিবর্তন আনা অত্যন্ত দরকার।
ভারতীয় চিকিৎসক ডা. অলোক চোপড়া জানান, কেবল খাবারে লবণের ব্যবহারই নয়, বরং ঘুম, দৈনন্দিন শারীরিক তৎপরতা ও ব্যায়ামের মতো বিষয়গুলোও রক্তচাপের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তাই দৈনন্দিন খাবার থেকে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত উপাদান বাদ দিয়ে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, চিপস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস পরিহার করা রক্তচাপ কমানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ।
খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে আলু, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ফল, ডাল ও শিমজাতীয় খাবারের পাশাপাশি হোল গ্রেইনের মতো শস্য যুক্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়া ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, বীজজাতীয় খাদ্য, পালং শাক ও পূর্ণ শস্য হৃৎপিণ্ড, পেশি ও স্নায়ুর সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
খাবারে পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরচর্চাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করা উচিত। এক্ষেত্রে সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে শুধু খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন বা ব্যায়াম নয়, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক।
