ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অন্ধকারে ডোবানোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ৬ আগস্ট ২০২৬ ৪৭৭৪

ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে মার্কিন আক্রমণ চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো উপসাগরীয় এলাকার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পানিশোধনাগারে পাল্টা আঘাত হানার কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অন্ধকারে ডোবানোর হুঁশিয়ারি

নিজের দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আক্রমণ চালানো হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুতায়িত অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো এই বার্তায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে সম্ভাব্য আক্রমণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরণের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় তিনি সেই অবস্থান থেকে পিছু হটেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য আক্রমণের জবাব দিতেই মূলত তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর অনুরূপ স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালাবে। এমনকি এই তালিকায় পাওয়ার প্ল্যান্টের পাশাপাশি মরু অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপেয় পানি শোধন কেন্দ্রগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জলযানে হামলার জবাবে ইরানের সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। জবাবে তেহরানও সমানুপাতিক প্রত্যাঘাতের নীতি ঘোষণার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের চূড়ান্ত বার্তা দেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত করার পর অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ইরান সমর্থিত বা পরিচালিত হামলার শিকার হয়ে আসছে। বিগত এপ্রিল ও জুনে যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি হলেও জুলাই মাসে তা ভেঙে যাওয়ার পর কুয়েত ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে আক্রমণের তীব্রতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন