NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

এআই উদ্ভাবনে নতুন উচ্চতায় চীন


আন্তর্জাতিক: প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

এআই উদ্ভাবনে নতুন উচ্চতায় চীন

বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের চলতি বছরের আসরে উন্মোচিত হলো চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল কিমি কে-৩। ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারযুক্ত মডেলটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-সোর্স মডেল। এআই খাতে চীনের ধারাবাহিক অগ্রগতির আরেক মাইলফলক হয়েছে এটি। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে করে দেশটির সামগ্রিক এআই সক্ষমতায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে চীন তার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সাফল্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগও করে নিচ্ছে।

চীনের বেশ কয়েকটি বৃহৎ ওপেন-সোর্স মডেল ধারাবাহিক ও সমন্বিত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলো বৈশ্বিক এআই উন্নয়নে দিচ্ছে নতুন সমাধান ও পথের সন্ধান। 

সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ডনিং ৮০০০ (সামিট)’ সিস্টেম। এটি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ১ লাখ জিপিইউ-সমৃদ্ধ এআই সুপারক্লাস্টার। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বৃহৎ পরিসরের দেশীয় কম্পিউটিং শক্তি এখন শুধু তৈরির পর্যায়ে আটকে নেই, বরং তা কার্যকর ব্যবহার, ব্যাপক আকারে পরিষেবা প্রদান এবং প্রতিলিপিযোগ্যতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

‘সুপার-ইন্টেলিজেন্ট ফিউশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডনিং ৮০০০ (সামিট)। প্রচলিত বিভাজনভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে এটি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটিং শক্তির সমন্বিত ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়। ২০টিরও বেশি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা সিস্টেমটি জাতীয় সুপারকম্পিউটিং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের কম্পিউটিং পরিষেবা দিচ্ছে।

সম্মেলনে প্রদর্শিত একটি স্মার্ট ফার্মেসি রোবট মাত্র ৭০ সেকেন্ডে ওষুধ শনাক্ত, বাছাই ও সরবরাহ করতে পারে। পরিবেশ বুঝে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিপুণ পরিচালনার মতো একাধিক সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে এই রোবটের কার্যকারিতা।

‘এক মস্তিষ্ক, একাধিক যন্ত্র’ প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশের ফলে রোবটগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখতে, চিন্তা করতে এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে। এসব রোবট এখন আর শুধু গবেষণাগার বা প্রদর্শনী বুথে সীমাবদ্ধ নেই। শাংহাইয়ের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাতের শিফটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সম্মেলনে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন আরেকটি এআই রোবট বিশেষ নজর কেড়েছে। মাল্টিমোডাল পারসেপশন, দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং আবেগ বোঝার সক্ষমতাসম্পন্ন এই রোবট ইতোমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষকে সঙ্গ দিতে পারছে।

জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছে। এতে এআই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এবং এআই-সমর্থিত টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই-সম্পর্কিত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে ৫ হাজার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে চীন। একই সঙ্গে আসিয়ান, আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, সিইএলএসি, এসসিও ও ব্রিকস দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক এআই প্রয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাতিসংঘের সর্বজনীন আগাম সতর্কীকরণ উদ্যোগের প্রতি সাড়া দিয়ে চীনের তৈরি বুদ্ধিমান আবহাওয়া-সংক্রান্ত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘মাচু’ এখন বিশ্বের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘মাচু’ ব্যবস্থার প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০টি দেশের।

চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ এআই পেটেন্টের অধিকারীও চীন। দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণপণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

২০২৬ সালের বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের এআই শিল্পে একের পর এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন উঠে এসেছে। সম্মেলনে প্রদর্শিত এসব বিস্ময়কর সাফল্য শুধু প্রদর্শনী বুথের চোখধাঁধানো প্রযুক্তি নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভবিষ্যৎ জীবনের দরজা খুলে দেওয়ারও চাবিকাঠি। 

 

সূত্র: লিলি-ফয়সল,চায়না মিডিয়া গ্রুপ ।