NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬ | ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
Uncovering the Cover of Researcher Ahmed H. Khan's Remarkable Book 'Pursuit of Divine Insight' গবেষক আহমেদ এইচ. খানের ব্যতিক্রমী গ্রন্থ ‘পারস্যুট অব ডিভাইন ইনসাইট’র মোড়ক উন্মোচন অবসান হলো বাংলাদেশের পুতুলনাট্য ও টেলিভিশন শিল্পের এক সোনালী অধ্যায়ের আলোর দিশারী- মুস্তাফা মনোয়ার দুটি ইতিহাসের মিলন: ২৫০ বছরের আমেরিকা, বাংলার উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের সংলাপ-আকবর হায়দার কিরন আড়াইশো বছরের বৃদ্ধ ঈগল - মোস্তফা সারওয়ার অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র ৫৩ বছর পর আবার গৌরবের প্রত্যাবর্তন: নিউ ইয়র্ক নিক্সকে ঘিরে এক শহরের স্বপ্ন, এক জাতির উচ্ছ্বাস - আকবর হায়দার কিরন রোকেয়া হায়দার: যে কণ্ঠস্বর পেরিয়েছে মহাসাগর - আকবর হায়দার কিরন রবিন খুদা: ঢাকা থেকে বিশ্ব প্রযুক্তির শীর্ষে এক বাংলাদেশির বিস্ময়কর যাত্রা -আকবর হায়দার কিরন কুলাউড়ার সন্তান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
Logo
logo

গবেষক আহমেদ এইচ. খানের ব্যতিক্রমী গ্রন্থ ‘পারস্যুট অব ডিভাইন ইনসাইট’র মোড়ক উন্মোচন


সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত:  ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

গবেষক আহমেদ এইচ. খানের ব্যতিক্রমী গ্রন্থ ‘পারস্যুট অব ডিভাইন ইনসাইট’র মোড়ক উন্মোচন

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচিত হলো বিশিষ্ট গবেষক ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ এইচ. খানের ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’ গ্রন্থের। পবিত্র আল কোরআন-এর বিভিন্ন বিষয় সংক্ষেপে কিন্তু গভীর উপলব্ধিতার আলোকে তুলে ধরা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই গ্রন্থটিতে। এছাড়াও গ্রন্থটির বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে এর দৃষ্টি নন্দন ক্যালিওগ্র্যাফি, যা পাঠকদের সহজেই আকৃষ্ট করবে। গ্রন্থটির অন্যতম মূল বক্তব্য হলো- ‘দ্য ডিভাইন হুইসপারস টু দোজ হু সিক উইথ অ্যান ওপেন মাইন্ড’, অর্থাৎ, যারা উন্মুক্ত মন নিয়ে সত্যের সন্ধান করেন, ঐশী সত্য তাদের কাছেই ধীরে ধীরে নিজেকে প্রকাশ করে। লেখকের মতে- সত্যের সন্ধান কোনো সংকীর্ণ চিন্তা, অহংকার বা পূর্বধারণার মাধ্যমে সম্ভব নয়। বরং, এর জন্য প্রয়োজন বিনয়, ধৈর্য, আত্মসমালোচনা এবং মুক্তচিন্তার সাহস। গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বলেন- গ্রন্থটি পাঠের মধ্য দিয়ে যেকোন মানুষ-কে মহান আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি, নবী-রাসুলের (সা:) ইসলামের দাওয়াত তথা আত্মিক-আধ্যাতিœক চর্চা ও মুক্তচিন্তা এবং ঐশীগত তথ্যের গুরু অর্থ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি সত্যিকারের একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরী করতে গ্রন্থটি ভূমিকা রাখবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে গ্রন্থটির প্রশংসাও করেন।  সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জার্নালিষ্ট ফোরাম গত ২৮ জুন রোববার অপরাহ্নে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ঠিকানা হাবে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালক ও বিশিষ্ট  ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম শামসী আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রন্থটির লেখক গবেষক আহমেদ এইচ. খান। সিমেন্স ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সফটওয়্যারের সিনিয়র ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার ড. আবু মাহমুদুল হাসানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের পরিচালক এবং বার্মিংহাম ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. নাসিম উদ্দিন। গ্রন্থটির উপর আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও কলামিস্ট মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ কালিম উল্লাহ এবং আল মামুর স্কুল বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নির্বাহী পরিচালক সামি উর রব। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমÐলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক সৈয়দ জাকি হোসেন। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক ফোরামের পক্ষে আকবর হায়দার কিরণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে গবেষক আহমেদ এইচ. খান ¯øাইড শো’র মাধ্যমে তাঁর গ্রন্থের বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি কোনো হঠাৎ প্রাপ্ত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ আত্মঅন্বেষণের ফল। জানা আর চর্চার বিষয়। মানুষের জীবনে সাফল্য যেমন শিক্ষা দেয়, তেমনি ব্যর্থতা, বেদনা, একাকিত্ব ও সংগ্রামও মানুষকে গভীর উপলব্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে সেই শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন অনুসন্ধিৎসু মন ও সংবেদনশীল হৃদয়। লেখকের মতে- জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার মধ্যেই একটি বার্তা থাকে। মানুষ যখন নিজের অভিজ্ঞতাকে কেবল সুখ-দুঃখের ঘটনা হিসেবে না দেখে শিক্ষা ও উপলব্ধির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে, তখন তার ভেতরে আত্মিক পরিপক্কতা তৈরি হয়। এই পরিপক্কতাই মানুষকে সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। গবেষক আহমেদ এইচ. বলেন, মানুষের ভেতরে সত্যের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে মনকে উন্মুক্ত রাখতে হয়। নিজের ভুল, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করার মধ্য দিয়েই আত্মশুদ্ধির পথ শুরু হয়। তিনি বলেন, মানুষ যখন অহংকার ও সংকীর্ণতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে, তখন তার সামনে নতুন উপলব্ধির দুয়ার খুলে যায়। গ্রন্থটির বিশেষত্ব হলো, এটি ইসলামী জ্ঞানকে শুধু তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে না; বরং তাকে অনুভবযোগ্য, চিন্তাযোগ্য এবং হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে চায়। আল কুরআনের গভীর শিক্ষা, সহিহ হাদিসের  প্রজ্ঞা, ইসলামী শিল্পকলার সৌন্দর্য, মনোমুগ্ধকর ক্যালিগ্রাফি এবং সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ- এসবের সমন্বয়ে বইটি পাঠককে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়। এখানে জ্ঞান কেবল মস্তিষ্কে থেমে থাকে না; তা হৃদয়ে স্পর্শ করে, দৃষ্টিকে প্রসারিত করে এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে শেখায়। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য এ ধরনের উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের তরুণেরা ছবি, নকশা, দৃশ্যমানতা ও দ্রæত যোগাযোগের যুগে বেড়ে উঠছে। তাদের কাছে সত্যকে পৌঁছাতে হলে সত্যের ভাষা অবশ্যই অপরিবর্তিত থাকবে, কিন্তু উপস্থাপনা হতে হবে জীবন্ত, সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক। এই বই সেই প্রয়োজনকে উপলব্ধি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামের শিক্ষা কেবল অতীতের স্মৃতি নয়; বরং বর্তমানের দিকনির্দেশ, ভবিষ্যতের আশ্বাস এবং প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য অন্তরের আলো। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দ্রæত পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বে মানুষ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর, প্রতিযোগিতামুখী এবং বাহ্যিক সাফল্যের পেছনে ছুটছে। কিন্তু এই দৌড়ঝাঁপের ভেতরে মানুষ অনেক সময় নিজের অন্তর্জগত, আত্মপরিচয় ও নৈতিক বোধ থেকে দূরে সরে যায়। এমন বাস্তবতায় ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’ গ্রন্থটি পাঠককে ভাবতে, নিজের ভেতরে তাকাতে এবং জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করবে। সেই সাথে সত্যিকারের মানুষ নিহেবে নিজেকে তৈরী করতে সাহায্য করবে। গ্রন্থটির উপর আলোচনাকালে বক্তারা বলেন, গ্রন্থটিতে আধ্যাত্মিকতার ধারণাকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতি বা সংস্কৃতির সীমার মধ্যে আবদ্ধ করা হয়নি। বরং আধ্যাত্মিকতাকে মানবজাতির সার্বজনীন অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সহমর্মিতা, সততা, বিনয়, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসাকে লেখক ঐশী সত্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যা পাঠককে ভাবাবে, নিজেকে সমৃদ্ধ করবে। গ্রন্থটিতে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও চিন্তাশীল আলোচনা রয়েছে। লেখক মনে করেন, মানুষ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিজের ভেতরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন। বাইরের শব্দ, প্রতিযোগিতা ও স্বীকৃতির আকাক্ষা মানুষের নীরব আত্মকণ্ঠকে ঢেকে দেয়। অথচ সত্য অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে নয়, নীরবতা ও গভীর মননের মধ্য দিয়েই মানুষের কাছে ধরা দেয়।  অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, সামাজিক বিভাজন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও আত্মঅন্বেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষক আহমেদ এইচ. খান জানান, তার দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’। গ্রন্থটির ক্যালিগ্রাফির পিছনেই ৪ হাজারের ডলার ব্যয় হয়েছে। গেøাসি হার্ড পেপারে গ্রন্থটির মূল্য ইউএস ৬০ ডলার। গ্রন্থটির সকল ভার্সন অচিরেই অ্যাজামন.কম এ পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আল মামুর স্কুল বোর্ড অব ট্রাস্টি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মহসিন পাটোয়ারী, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র নির্বাহী সম্পাদক জাবেদ খসরু, সাপ্তাহিক হককথা ও আজকের টেলিগ্রাম সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেট.কম সম্পাদক এমদাদ দিপু, লেখক ড. রফিকুন ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এমাদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন, বিশিষ্ট রাজনীতিক শাহীন আজমল, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রæপ (বাগ) এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ডা. সৈয়দ আল আমীন রাসেল, সাহিত্য একাডেমীর প্রধান নির্বাহী মোশাররফ হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক মনিজা রহমান, কবি রওশন হাসান, লেখক ম. আমিনুল হক চুন্নু, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আনিসুল কবীর জাসির, জাহাঙ্গীর হোসেন, এনায়েত হোসেন জালাল এবং আফজুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। লেখক পরিচিতি: আহমেদ এইচ. খান একজন ইসলামী জ্ঞানঅন্বেষী, গবেষক ও লেখক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সুইডেনে প্রকাশিত প্রথম সুইডিশ-বাংলা অভিধান-এর রচয়িতা। স¤প্রতি তিনি প্রকৌশল পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে অধিক সময় ব্যয় করছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং সুইডেনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে  স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঊৎরপংংড়হ ওহপ., ঞ-গড়নরষব, ঠবৎরুড়হ, ডধংযরহমঃড়হ গঁঃঁধষ এবং অঢ়ঢ়ষব-এ ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট ও উচ্চপ্রযুক্তি সফটওয়্যার শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অহঃর-ওংষধসরঃব.পড়স-এর প্রতিষ্ঠাতা। গঠনপ্রক্রিয়াধীন এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের শিকার মুসলমানদের জন্য আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।গবেষক আহমেদ এইচ. খানের ব্যতিক্রমী গ্রš’ ‘পারস্যুট অব ডিভাইন ইনসাইট’র মোড়ক উন্মোচন নিউইয়র্ক (ইউএনএ): কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপ¯ি’তিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচিত হলো বিশিষ্ট গবেষক ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ এইচ. খানের ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’ গ্রšে’র। পবিত্র আল কোরআন-এর বিভিন্ন বিষয় সংক্ষেপে কিš‘ গভীর উপলব্ধিতার আলোকে তুলে ধরা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই গ্রš’টিতে। এছাড়াও গ্রš’টির বিশেষ আকর্ষণ হ”েছ এর দৃষ্টি নন্দন ক্যালিওগ্র্যাফি, যা পাঠকদের সহজেই আকৃষ্ট করবে। গ্রš’টির অন্যতম মূল বক্তব্য হলো- ‘দ্য ডিভাইন হুইসপারস টু দোজ হু সিক উইথ অ্যান ওপেন মাইন্ড’, অর্থাৎ, যারা উন্মুক্ত মন নিয়ে সত্যের সন্ধান করেন, ঐশী সত্য তাদের কাছেই ধীরে ধীরে নিজেকে প্রকাশ করে। লেখকের মতে- সত্যের সন্ধান কোনো সংকীর্ণ চিন্তা, অহংকার বা পূর্বধারণার মাধ্যমে সম্ভব নয়। বরং, এর জন্য প্রয়োজন বিনয়, ধৈর্য, আত্মসমালোচনা এবং মুক্তচিন্তার সাহস। গ্রš’টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বলেন- গ্রš’টি পাঠের মধ্য দিয়ে যেকোন মানুষ-কে মহান আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি, নবী-রাসুলের (সা:) ইসলামের দাওয়াত তথা আত্মিক-আধ্যাতিœক চর্চা ও মুক্তচিন্তা এবং ঐশীগত তথ্যের গুরু অর্থ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি সত্যিকারের একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরী করতে গ্রš’টি ভূমিকা রাখবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে গ্রš’টির প্রশংসাও করেন। খবর ইউএনএ’র। সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জার্নালিষ্ট ফোরাম গত ২৮ জুন রোববার অপরাহ্নে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ঠিকানা হাবে গ্রš’টির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালক ও বিশিষ্ট  ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম শামসী আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রš’টির লেখক গবেষক আহমেদ এইচ. খান। সিমেন্স ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সফটওয়্যারের সিনিয়র ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার ড. আবু মাহমুদুল হাসানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের পরিচালক এবং বার্মিংহাম ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. নাসিম উদ্দিন। গ্রš’টির উপর আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও কলামিস্ট মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ কালিম উল্লাহ এবং আল মামুর স্কুল বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নির্বাহী পরিচালক সামি উর রব।এছাড়াও শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমÐলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক সৈয়দ জাকি হোসেন। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক ফোরামের পক্ষে আকবর হায়দার কিরণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে গবেষক আহমেদ এইচ. খান ¯øাইড শো’র মাধ্যমে তাঁর গ্রšে’র বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি কোনো হঠাৎ প্রাপ্ত বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ আত্মঅন্বেষণের ফল। জানা আর চর্চার বিষয়। মানুষের জীবনে সাফল্য যেমন শিক্ষা দেয়, তেমনি ব্যর্থতা, বেদনা, একাকিত্ব ও সংগ্রামও মানুষকে গভীর উপলব্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে সেই শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন অনুসন্ধিৎসু মন ও সংবেদনশীল হৃদয়। লেখকের মতে- জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার মধ্যেই একটি বার্তা থাকে।

মানুষ যখন নিজের অভিজ্ঞতাকে কেবল সুখ-দুঃখের ঘটনা হিসেবে না দেখে শিক্ষা ও উপলব্ধির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে, তখন তার ভেতরে আত্মিক পরিপক্কতা তৈরি হয়। এই পরিপক্কতাই মানুষকে সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। গবেষক আহমেদ এইচ. বলেন, মানুষের ভেতরে সত্যের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। কিš‘ সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে মনকে উন্মুক্ত রাখতে হয়। নিজের ভুল, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করার মধ্য দিয়েই আত্মশুদ্ধির পথ শুরু হয়। তিনি বলেন, মানুষ যখন অহংকার ও সংকীর্ণতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে, তখন তার সামনে নতুন উপলব্ধির দুয়ার খুলে যায়। গ্রš’টির বিশেষত্ব হলো, এটি ইসলামী জ্ঞানকে শুধু তথ্য হিসেবে উপ¯’াপন করে না; বরং তাকে অনুভবযোগ্য, চিন্তাযোগ্য এবং হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে চায়। আল কুরআনের গভীর শিক্ষা, সহিহ হাদিসের  প্রজ্ঞা, ইসলামী শিল্পকলার সৌন্দর্য, মনোমুগ্ধকর ক্যালিগ্রাফি এবং সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ- এসবের সমন্বয়ে বইটি পাঠককে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়। এখানে জ্ঞান কেবল মস্তিষ্কে থেমে থাকে না; তা হৃদয়ে স্পর্শ করে, দৃষ্টিকে প্রসারিত করে এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে শেখায়। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য এ ধরনের উপ¯’াপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের তরুণেরা ছবি, নকশা, দৃশ্যমানতা ও দ্রæত যোগাযোগের যুগে বেড়ে উঠছে। তাদের কাছে সত্যকে পৌঁছাতে হলে সত্যের ভাষা অবশ্যই অপরিবর্তিত থাকবে, কিš‘ উপ¯’াপনা হতে হবে জীবন্ত, সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক। এই বই সেই প্রয়োজনকে উপলব্ধি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামের শিক্ষা কেবল অতীতের স্মৃতি নয়; বরং বর্তমানের দিকনির্দেশ, ভবিষ্যতের আশ্বাস এবং প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য অন্তরের আলো। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দ্রæত পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বে মানুষ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর, প্রতিযোগিতামুখী এবং বাহ্যিক সাফল্যের পেছনে ছুটছে। কিš‘ এই দৌড়ঝাঁপের ভেতরে মানুষ অনেক সময় নিজের অন্তর্জগত, আত্মপরিচয় ও নৈতিক বোধ থেকে দূরে সরে যায়। এমন বাস্তবতায় ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’ গ্রš’টি পাঠককে ভাবতে, নিজের ভেতরে তাকাতে এবং জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করবে। সেই সাথে সত্যিকারের মানুষ নিহেবে নিজেকে তৈরী করতে সাহায্য করবে। গ্রš’টির উপর আলোচনাকালে বক্তারা বলেন, গ্রš’টিতে আধ্যাত্মিকতার ধারণাকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতি বা সংস্কৃতির সীমার মধ্যে আবদ্ধ করা হয়নি। বরং আধ্যাত্মিকতাকে মানবজাতির সার্বজনীন অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সহমর্মিতা, সততা, বিনয়, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসাকে লেখক ঐশী সত্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যা পাঠককে ভাবাবে, নিজেকে সমৃদ্ধ করবে। গ্রš’টিতে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও চিন্তাশীল আলোচনা রয়েছে। লেখক মনে করেন, মানুষ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিজের ভেতরের জগত থেকে বি”িছন্ন। বাইরের শব্দ, প্রতিযোগিতা ও স্বীকৃতির আকাক্ষা মানুষের নীরব আত্মকণ্ঠকে ঢেকে দেয়। অথচ সত্য অনেক সময় উ”চকণ্ঠে নয়, নীরবতা ও গভীর মননের মধ্য দিয়েই মানুষের কাছে ধরা দেয়।  অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, সামাজিক বিভাজন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও আত্মঅন্বেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষক আহমেদ এইচ. খান জানান, তার দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল ‘পারস্যুইট অব দ্য ডিভাইন ইনসাইট’। গ্রš’টির ক্যালিগ্রাফির পিছনেই ৪ হাজারের ডলার ব্যয় হয়েছে। গেøাসি হার্ড পেপারে গ্রš’টির মূল্য ইউএস ৬০ ডলার। গ্রš’টির সকল ভার্সন অচিরেই অ্যাজামন.কম এ পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আল মামুর স্কুল বোর্ড অব ট্রাস্টি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মহসিন পাটোয়ারী, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র নির্বাহী সম্পাদক জাবেদ খসরু, সাপ্তাহিক হককথা ও আজকের টেলিগ্রাম সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেট.কম সম্পাদক এমদাদ দিপু, লেখক ড. রফিকুন ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এমাদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন, বিশিষ্ট রাজনীতিক শাহীন আজমল, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রæপ (বাগ) এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ডা. সৈয়দ আল আমীন রাসেল, সাহিত্য একাডেমীর প্রধান নির্বাহী মোশাররফ হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক মনিজা রহমান, কবি রওশন হাসান, লেখক ম. আমিনুল হক চুন্নু, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আনিসুল কবীর জাসির, জাহাঙ্গীর হোসেন, এনায়েত হোসেন জালাল এবং আফজুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপ¯ি’ত ছিলেন।

লেখক পরিচিতি: আহমেদ এইচ. খান একজন ইসলামী জ্ঞানঅন্বেষী, গবেষক ও লেখক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সুইডেনে প্রকাশিত প্রথম সুইডিশ-বাংলা অভিধান-এর রচয়িতা। স¤প্রতি তিনি প্রকৌশল পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে অধিক সময় ব্যয় করছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং সুইডেনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে  স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঊৎরপংংড়হ ওহপ., ঞ-গড়নরষব, ঠবৎরুড়হ, ডধংযরহমঃড়হ গঁঃঁধষ এবং অঢ়ঢ়ষব-এ ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট ও উ”চপ্রযুক্তি সফটওয়্যার শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অহঃর-ওংষধসরঃব.পড়স-এর প্রতিষ্ঠাতা। গঠনপ্রক্রিয়াধীন এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের শিকার মুসলমানদের জন্য আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।