NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬ | ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
দুটি ইতিহাসের মিলন: ২৫০ বছরের আমেরিকা, বাংলার উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের সংলাপ-আকবর হায়দার কিরন আড়াইশো বছরের বৃদ্ধ ঈগল - মোস্তফা সারওয়ার অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র ৫৩ বছর পর আবার গৌরবের প্রত্যাবর্তন: নিউ ইয়র্ক নিক্সকে ঘিরে এক শহরের স্বপ্ন, এক জাতির উচ্ছ্বাস - আকবর হায়দার কিরন রোকেয়া হায়দার: যে কণ্ঠস্বর পেরিয়েছে মহাসাগর - আকবর হায়দার কিরন রবিন খুদা: ঢাকা থেকে বিশ্ব প্রযুক্তির শীর্ষে এক বাংলাদেশির বিস্ময়কর যাত্রা -আকবর হায়দার কিরন কুলাউড়ার সন্তান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency
Logo
logo

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছাতিয়ানগ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ০১ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫২ এএম

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছাতিয়ানগ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 এম আব্দুর রাজ্জাক বগুড়া থেকে :

"মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে চলুন"—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে  এবং চলো যাই যুদ্ধে - মাদকের বিরুদ্ধে " প্রতিবাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন ) বিকাল ৪ টায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের পরিষদের বাজারের হাটখোলা প্রাঙ্গনে, এক প্রাণবন্ত, তাৎপর্যপূর্ণ ও জনসচেতনতামূলক মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।   ছাতিয়ানগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত ) মহিউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে   প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি- দুপচাঁচিয়া থানার সার্কেল অফিসার মো.আসিফ হোসেন।    এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, আদমদিঘী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. কামরুজ্জামান মিয়া, উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি এবং সাবেক ছাতিয়ানগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তাকীন তালুকদার মুক্তা, আদমদীঘি থানা বিট পুলিশিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক আব্দুল মোতালেব, বিট পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, এবং সদস্য ও আদমদীঘির প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা।  এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ছাতিয়ানগ্রাম ইউপি সদস্য আবু তাহের, আনোয়ার হোসেন জীবন, শ্রী সুদেব কুমার ঘোষ, মহসিন আলী, ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপি'র সংগঠনিক সম্পাদক সরফরাজ আলী, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি 'র সভাপতি আতোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি'র সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ইউনুস আলী, লোকমান সরকার, আব্দুল মান্নান সরকার, ওয়াহেদুন নবী তামিম।    এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজসেবক, তরুণ প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিক এবং সাংবাদিকবৃন্দগণ।   এ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আসিফ হোসেন বলেন, "মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন মানুষের জীবনই নয়, একটি পরিবারের সুখ-শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের উন্নয়নকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।"  তিনি বলেন, "যুবসমাজই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্ভাবনা। এই শক্তিকে যদি মাদকাসক্তি গ্রাস করে, তাহলে একটি জাতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে।"  তিনি আরও বলেন, "সরকার মাদক নির্মূলে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। এই কার্যক্রমকে আরও সফল করতে হলে জনগণকে প্রশাসনের পাশে দাঁড়াতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। আজকের একটি সাহসী পদক্ষেপ আগামী দিনের একটি নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করতে পারে।"  প্রধান অতিথি উপস্থিত সকলকে নিজ নিজ পরিবার ও সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি—নিজে মাদক থেকে দূরে থাকব, অন্যকেও দূরে রাখব এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।"  আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন আদমদীঘি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.কামরুজ্জামান মিয়া।   তিনি বলেন, "মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

 তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সবচেয়ে বড় সামাজিক দায়িত্ব। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সচেতন পরিবারই পারে একটি সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে।  বক্তব্যে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবী সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা গোপন না রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সফল করা সম্ভব নয়। পুলিশ জনগণের বন্ধু; তাই অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"   আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, "আজকের সচেতনতাই আগামী দিনের নিরাপত্তা।" তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে, যাতে কোনো তরুণ ভুল পথে পরিচালিত না হয়।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত এ ধরনের সভা, সেমিনার ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।  অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদক,জুয়া,সন্ত্রাস ও সকল ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদক এবং জুয়া মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।  "চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে"—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক এ সভা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সভা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষিত রেখে একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।