আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
.png)
৪ জুলাই ২০২৬—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্ণ করছে এই দেশ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাই আমার জন্মদিন। তাই প্রতি বছর এই দুটি দিন যেন একসঙ্গে ইতিহাস ও জীবনের উৎসবে পরিণত হয়। কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রখ্যাত এমেরিটাস অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ ড. মুস্তফা সরওয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপচারিতায় আমরা ফিরে গিয়েছিলাম অষ্টাদশ শতাব্দীর সেই উত্তাল সময়ে—যে সময়ে একদিকে বাংলার পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা হয়, আর অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই নতুন রাষ্ট্র United States-এর জন্ম দেয়। এই দুটি ঘটনা ভৌগোলিকভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটলেও বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাংলার সম্পদ, বাণিজ্য এবং British East India Company-এর উত্থান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। সেই একই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায় রচনা করে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে ড. মুস্তফা সরওয়ারের বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া। তাঁর সঙ্গে আমার এই আলোচনা শিগগিরই “কফি উইথ কিরন” অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ পর্ব হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য এটি হবে এক ব্যতিক্রমী ও মূল্যবান সংলাপ।
উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে Bangladeshi-American Media Foundation-এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের স্মারকগ্রন্থ, ব্যাকড্রপ, নকশা ও উপস্থাপনায় সর্বত্রই ছিল “250”—একটি সংখ্যা, যা কেবল একটি বার্ষিকী নয়, বরং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অভিবাসীদের অবদান এবং বহুসাংস্কৃতিক আমেরিকার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক।
আজ, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক ও অভিবাসী হিসেবে আমি অনুভব করি—বাংলার ইতিহাস এবং আমেরিকার ইতিহাস পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বরং তারা বিশ্ব ইতিহাসের একই ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় উপনিবেশবাদের মূল্য, অন্যটি স্বাধীনতার শক্তি ও সম্ভাবনার কথা বলে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০ বছরের পথচলা উদযাপন করছে, তখন আমাদেরও উচিত ইতিহাসকে নতুন করে পড়া, নতুনভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলে ধরা। ইতিহাসের এই সংলাপই হয়তো আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।