আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

বিশেষ প্রতিবেদন
নিউ ইয়র্ক, ২৭ মে : বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী আগামী ৩০ মে বৃহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। আয়োজনটির মূল আকর্ষণ থাকছে পবিত্র দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও তাবারক বিতরণ। শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একাংশের বিদ্রোহের শিকার হয়ে নিহত হন। তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই নন, বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও দেশের স্বাধীনতার দ্বিতীয় ঘোষক হিসেবে চিরস্মরণীয়। তাঁর হাত ধরেই বিএনপির যাত্রা শুরু, যা আজ দেশের প্রধান শাসনশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মাইলফলক বছর। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসেন এবং দলটির হাত ধরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে সরকার গঠন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় কার্যদিবসেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গত ২৫ মে অ্যাডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার তহবিল ঘোষণা করেন। এছাড়া আগামী জুনেই তিনি প্রথম বিদেশ সফরে চীন সফর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমান সর্বসম্মতিক্রমে দলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্বও গ্রহণ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনে বিএনপি ৮ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ৩০ মে সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী এই সময় বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বিএনপি সমর্থকদের একই উদ্দীপনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে স্থানীয় আয়োজকরা জানান, ‘এ বছর আমাদের আয়োজন আরও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু ইতিহাসের স্মরণ নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত জিয়ার আদর্শ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপও বটে।’ জ্যাকসন হাইটসের এই অনুষ্ঠান শুধু স্মৃতিচারণ ও দোয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না—প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে দলীয়ভাবে যেভাবে আনন্দ-উৎসবের আয়োজন হয়েছে, এবারের শ্রদ্ধাঞ্জলি তারই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এক অপূর্ব মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আগামী ৩০ মে জ্যাকসন হাইটসের গণঅধিকার সুসংহত রাখতে এক বিশাল মানববন্ধন ও দোয়ার আয়োজন থাকছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।বহু বছর ধরে আয়োজিত শহীদ জিয়ার স্মরনে দেশী বিদেশী জনগণ এতে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েক গরু দিয়ে রান্না করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন সভাপতি সাকিল মিয়া ও সম্পাদক মোহাম্মদ নমি।